আরেক সাইফুর রহমান কী পাবে সিলেটের মানুষ

আরেক সাইফুর রহমান কী পাবে সিলেটের মানুষ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটবাসী অনেক কিছুই চাননি। ধারণায়ও ছিল না। তখন উন্নয়নে পিছিয়ে সিলেট। দৃশ্যপটে এসেছিলেন এম. সাইফুর রহমান। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। অনেক কিছু দিয়ে গেছেন সিলেটকে। বদলে দিয়েছেন সবকিছু। বিষয়টি ছিল এরকম- সিলেটে উন্নয়ন নিয়ে যখন যে কথা বলেছেন, সাইফুর রহমান তা করে দিয়েছেন। সাইফুর রহমান নিজ উদ্যোগে করেন অনেক উন্নয়ন। এ কারণেই সিলেটের মানুষের মুখে মুখে এখনো সাইফুরের নাম। জনরায়ে বিএনপি ক্ষমতায়। সরকার গঠন মঙ্গলবার। এই সময়েও সিলেটের মানুষের স্মরণে সাইফুর রহমান। কিন্তু তিনি বেঁচে নেই। একটি গল্প সিলেটের মানুষের মুখে মুখে। সাইফুর রহমানও বিগত বিএনপি জামানার শেষ দিকে এসে সেই গল্প বলেছিলেন একটি অনুষ্ঠানে। আফসোস করে বলেছিলেন- ‘আপনারা কম চান। বেশি বেশি চাইবেন।’ সাইফুর রহমান তখন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। দেশের অন্য এলাকায় একটি ভেটেরিনারি কলেজ হবে। সেটির প্রস্তাব গেছে সাইফুর রহমানের টেবিলে। কিছুটা অবাক হলেন সাইফুর রহমান। অন্য জায়গায় হলে সিলেটে কেন এ রকমের একটি প্রতিষ্ঠান হবে না- প্রশ্ন করলেন সংশ্লিষ্টদের। তাৎক্ষণিকই বলে দিলেন- যাও সিলেটের জন্য এ ধরনের একটি প্রস্তাবনা নিয়ে আসো। তাহলে দুটো একসঙ্গে পাস হয়ে যাবে। কর্মকর্তারা তাই করলেন। শেষে সিলেট ভেটেরিনারি কলেজসহ দুটি কলেজের অনুমোদন দিলেন সাইফুর রহমান। এই কলেজটি সিলেটের মানুষের ধারণায়ই ছিল না। তখন মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। তাকে সঙ্গে নিয়ে এসে নগরের বালুচরে এই কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শুধু কলেজই করেননি ক্ষমতা ছাড়ার পূর্ব মুহূর্তে তিনি ওই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাবটি পাস করিয়ে যান। এখন সেটি দেশের অন্যতম একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। পাশেই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। সেটিও সাইফুর রহমান একইভাবে করে দিয়ে যান।

ওই কলেজ সম্পর্কে তখন সিলেট থেকে একটি দাবিও উত্থাপন করা হয়নি। বলেছিলেন- সামনে সময় এলে ওই প্রতিষ্ঠানকেও বিশ্ববিদ্যালয় করবেন। সিলেটকে বদলে দিয়েছিলেন সাইফুর রহমান। সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ফোরলেন করাসহ তখন মেগা মেগা প্রজেক্ট সিলেটে হয়েছে। সুরমার উপর সর্বশেষ স্থাপিত কাজিরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গিয়েছিলেন তিনি। ২০ বছর ক্ষমতায় নেই বিএনপি। মাঝখানে অনেক চড়াই-উতরাই। সিলেটে কেবল উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। কিছু কিছু নতুন উন্নয়ন করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আব্দুল মাল আবদুল মুহিত। তবে সাইফুরের মতো না। বলা হচ্ছে- উন্নয়নে ২০ বছরই পিছিয়ে ছিল সিলেট। যার প্রমাণ এখন মিলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় নাকাল সিলেট। ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের কাজ অর্ধেকও হয়নি ৪ বছরে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজ ঝুলে আছে। রেলপথ আধুনিকায়নের কোনো প্রস্তাবই নেই। শিক্ষা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থানসহ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে সিলেট। বলা হয়ে থাকে প্রবাসী শহর। আধুনিক হবে। কিন্তু বাস্তবে এখনো সিলেট দেশের অন্যান্য মেগা সিটির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহরের সঙ্গে তাল মেলানো তো দূরের কথা।

এবার ব্যালটের বিপ্লব ঘটানো হয়েছে। নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। সিলেট অঞ্চলে বাজিমাত করলো দলটি। ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থীরা। এখন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে তুমুল আলোচনা। সিলেটে একেক সময় আসছে একেক খবর। উড়ো খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে। একাধিক মন্ত্রী পাচ্ছে সিলেট। আলোচনায় আছেন অনেকেই। সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমান মৌলভীবাজার-৩ থেকে নির্বাচিত। তার নাম বেশ জোরেশোরেই আলোচনা হচ্ছে। তিনি কি বাবার যোগ্য উত্তরসূরী হবেন?
এছাড়া আলোচনায় আছেন বরেণ্য অর্থমন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের এমপি আরিফুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন মিলনের নামও আলোচনায় রয়েছে।