নবীগঞ্জে রেজা কিবরিয়ার বিজয়ের নেপথ্যে

নবীগঞ্জে রেজা কিবরিয়ার বিজয়ের নেপথ্যে

ফন্ট সাইজ:

নির্বাচনী মাঠে ধোঁয়াশা। বিএনপি’র বিদ্রোহী সাবেক এমপি শেখ সুজাতের ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চিন্তা। সাইবার বুলিংয়ে অতিষ্ঠ ড. রেজা কিবরিয়া। চারদিকে তাকে নিয়ে গুজব আর বিভ্রান্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দফায় উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়কসহ ৪৮ জন নেতাকর্মী বহিষ্কার। এ ছাড়াও ড. রেজাকে ঠেকাতে দেশ বিদেশে শুরু হয় গভীর ষড়যন্ত্র। এসবকে পেছনে ফেলে নির্ঘুম গণসংযোগ করেন ড. রেজা কিবরিয়া। 
সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়া মাঠ চষে বেড়ান। ওদিকে, ৮ই ফেব্রুয়ারি শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রথান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনি। ওখান থেকেই শুরু হয় বিজয়ের ম্যাজিক।


বিএনপি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গণসংযোগে সমন্বয়হীনতা, দলীয় বিভক্তি আর বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে শুরুতেই দেখা দেয় গভীর সমীকরণ। বিদ্রোহী সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা দিয়েও শেষ মুহূর্তে অজানা রহস্যে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করেন। শুধু তাই নয়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়াকে নিয়ে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে আসা প্রবাসীদের কাজে লাগানো নিয়েও হতাশা দেখা দেয়। এ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও মধ্য প্রাচ্যের অর্ধশতাধিক প্রবাসীদের নিয়ে ৩রা ফেব্রুয়ারি প্রাবাসী সংগঠন ‘গ্লোবাল এসোসিয়েশন’ ও নিউজ পোর্টাল’ ‘বার্তা সিলেট’-এর যৌথ উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সভায় প্রবাসীরা নিজ দায়িত্বে এলাকা ভিত্তিক গণসংযোগ ও কেন্দ্রভিত্তিক তদারকির দায়িত্ব নেন। নিজস্ব পরিবহনে শুরু হয় গণসংযোগ। দৃস্যপট পাল্টাতে শুরু করে। এতো কিছুর পরও ধোঁয়াশা থেকেই যায়। ৮ই ফেব্রুয়ারি উপজেলা শহরে শেষ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলাহজ্ব জিকে গউছসহ জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক নেতা কর্মীর উপস্থিতিতে বক্তব্য দেন হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ড. রেজা কিবরিয়ার বিজয় দেখতে চান। কেন্দ্র থেকে দলীয় ভাবে সবকিছূ পর্যবেক্ষণ হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকার ভোটার ও সাধারণ মানুষের সৌভাগ্য প্রার্থী হিসেবে একজন ভালো ও যোগ্য মানুষ পেয়েছেন। তিনি পাস করলে শুধু এমপি আরও ভালো কিছু পাবেন। সোজা কথা তিনি মন্ত্রী হবেন। তিনি না হয়ে আমি মন্ত্রীয় হলেও তার পাশে থেকে আপনাদের উন্নয়নে সবকিছু করবো। এই কথা গুলো তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তৃণমূলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিএনপি। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জি কে গউছ সকল মতভেদ ভুলে ড. রেজার বিজয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।


উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৭৭টি। সব কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪০০, ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৮ হাজার ৪০৯।


কাজী আব্দুল ওয়াদুদ, (কাজী আলফু)

৫ মাস আগে

আমি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে হ্যান্ডসেইক করি মির পুর ফয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বাহুবল প্রথম ছাত্র সংগঠন হয়। আমি ক্লাস সেভেনের ছাত্র। আকাদ্দছ মিয়া বাবুল ভাই থানা ছাত্র দলের আহ্বায়ক।
আমি মুক্তি যোদ্ধা পরিবারের মানুষ।চড়াই উৎরাই কম দেখিনি।
এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ডঃ রেজা কিবরিয়ার গ্রহণ যোগ্যতা ছিল উচ্চ শিক্ষিত মানুষ।
দলের বা দল ছাড়া ও তিনি পছন্দের তালিকায় ছিলেন।
সর্বোপরি উনার স্ত্রী সিমি কিবরিয়ার ত্যাগ এ বিজয়ে ব্যাপক ভুমিকা রাখে।

মন্তব্য করুন