ভারপ্রাপ্তের ভারে...

ভারপ্রাপ্তের ভারে...

ফন্ট সাইজ:

ভারপ্রাপ্তের ভারে অনেকটা নূইয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা। গত ৫০ দিন এখানে ইউএনও’র পদে অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নাসিরনগরের ইউএনও। ফলে অত্যন্ত কষ্টকর ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ছিলেন কর্মকর্তারা। অবশেষে গত বুধবার যোগদান করেছেন ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম। বেশ কয়েকটি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি পদ, মাধ্যমিকের ৬টি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৩টি প্রধান শিক্ষকের পদই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও শৃঙ্খলা।

ইউএনও, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। বদলিজনিত কারণে গত মার্চ মাসের ২ তারিখ চলে গেছেন ইউএনও আবুবকর সরকার। কাজ চালানোর জন্য ওইদিনই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিনকে। তিনি প্রায় ৫০ দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সরাইলে। দাপ্তরিক কাজে খুবই সমস্যা ও কষ্ট করেছেন অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা। একাধিক কর্মকর্তা জানান- এত লম্বা সময় উপজেলার প্রধান পদ ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলতে আগে দেখিনি। যেকোনো সময় ইউএনও স্যারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। স্যার যখন আসেন কাজ করি। যখন থাকেন না তখন জরুরি প্রয়োজন হলে নাসিরনগরে লোক পাঠিয়ে স্বাক্ষর আনতে হতো। এতে করে স্যার ও আমাদের উভয়ের জন্য কষ্ট হতো।

উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। গত ৯ই এপ্রিল অফিস আদেশে বদলি হয়েছেন সরাইল উপজেলা কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. কামরুল হাসান। ওই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মো. রাকিব। এক বছর আগেই অবসরে চলে গেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. সাইদুর রহমান। এ ছাড়া উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক, তথ্য সেবা কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার ২টি পদ, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ৩টি পদ, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৪টি পদ, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক, সহকারী দারিদ্র্যবিমোচন কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও কানুনগো’র পদ দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে।

উপজেলার ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদ্রাসার মধ্যে ৬টি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চুন্টা অবিনাশ চন্দ্র একাডেমি, সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দেওড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, পাকশিমুল হাজী শিশু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নোয়াগাঁও শেখ আশরাফ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩টি চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এগুলো হলো- ধামাউড়া স.প্রা. বিদ্যালয়, বারপাইকা স.প্রা. বিদ্যালয়, কালিশিমুল স.প্রা. বিদ্যালয়, ফতেহপুর স.প্রা. বিদ্যালয়, ষাটবাড়িয়া স.প্রা. বিদ্যালয়সহ আরও অনেক বিদ্যালয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্রাচার্য্য ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নৌসাদ মাহমুদ বলেন- ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলমান বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকসহ অন্যান্য কর্মচারীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে চান না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছেন না। বদলি নেই। প্রমোশনও হচ্ছে না। আমরা দ্রুত ওই সকল বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রত্যাশা করছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন