গদখালীর ফুল সুবাস ছড়াচ্ছে দেশে দেশে

গদখালীর ফুল সুবাস ছড়াচ্ছে দেশে দেশে

ফন্ট সাইজ:

যশোরের গদখালীর ফুলের খ্যাতি এখন দেশজোড়া। এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে গদখালীর ফুলের সুবাস ছড়াচ্ছে সারা দেশেই। হ্যাপি নিউ ইয়ার,বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস সহ বছরের উল্লেখযোগ্য দিনগুলোতে যশোরের গদখালীর ফুল ছাড়া যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় না কোনো আয়োজন। আর এই গদখালীর কৃষকরা বছরের এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোকে সামনে রেখে সাজান তাদের স্বপ্ন। যশোর শহরেও মোড়ে মোড়ে ফুলের খুচরা দোকানেও শোভা পাচ্ছে গদখালীর ফুল। দেশের প্রধান ফুলের পাইকারি বাজার গদখালীতে প্রতিদিন সকালে বসে ফুলের পাইকারি বাজার। এই বাজার থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফুল ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছে এই অঞ্চলের চাষীদের উৎপাদিত বেশ কয়েক রকমের দেশি-বিদেশি নানা রঙের ফুল। এই বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, গড়ে প্রতিদিন এই হাটে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ফুলের হাত বদল হয়ে থাকে। তবে বছরের বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে এই সংখ্যা কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়। তবে এসব সাফল্যের খবরের পেছনেও রয়েছে কৃষকদের নানা রকমের হতাশা আর অপ্রাপ্তির নানা খবর।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এই অঞ্চলে অন্তত ৮৫০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ হচ্ছে। যা এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান অর্থকরি ফসল হিসেবে বিবেচিত। ফুল উৎপাদন, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণসহ ফুল-সংশ্লিষ্ট কাজে এই এলাকার লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এই ফুল চাষের আকার ও আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে কৃষি বিভাগের এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে গদখালী ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে এবার ফুলের আবাদ হয়েছে। সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাড়ে ৭ হাজার কৃষক।

সরজমিন দেখা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী, নাভারন ও পানিসারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে রয়েছে নানা জাতের ফুল। এই অঞ্চলের কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিউলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদা, লিলিয়াম, জিপসি, চন্দ্রমল্লিকাসহ অন্তত ১৫-২০ জাতের দেশি- বিদেশি ফুল। কৃষকরা বলছেন- সারা বছর ফুলের বেচা-বিক্রি হলেও বছরের কয়েকদিন তাদের কাছে উৎসবের। যার মধ্যে ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন বসন্ত উৎসব, ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস হচ্ছে ফুল ব্যবসার প্রধান মৌসুম। এসব উৎসবকে সামনে রেখে গাছে গাছে ফুল ধরে রাখতে, পোকার আক্রমণ ও পচন রোধে তারা বাড়তি পরিচর্যা করেন।

টাওরা গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, ভালোবাসা দিবসে গোলাপ, রজনীগন্ধা, জারবেরা ও গ্লাডিউলাস ফুল এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে গাঁদা ফুলের বেচাকেনা বেশি হয়। এ ছাড়া অন্যান্য পুলের বেচা-কেনা প্রায় সারা বছরই চলে। যার কারণে সারা বছর ধরেই ফুলের পরিচর্যা করতে হয়। বিশেষ করে, ফুলের মান ভালো রাখতে এবং পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ভিটামিন ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়া আগাছা দমন করতেও নানা রকমের ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। আশা করছি, বছরের প্রথম দুইটি দিবসের মতো সারা বছরই ভালো দামে ফুল বিক্রি করতে পারবো।

হাড়িয়া নিমতলা গ্রামের নয়ন হোসেন বলেন, ১৮ কাঠা জমিতে গোলাপের চাষ করছি। ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছি। এ ছাড়া সারা বছরই বিক্রির জন্য ফুলের পরিচর্যা করছি। এখন নানা ধরনের ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে, যাতে গাছ ও ফুল নষ্ট না হয়।

যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, সারা বছর ফুল বিক্রি হলেও মূলত বসন্ত বরণ, ভালোবাসা দিবস আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে বেচাকেনা বেশি হয়। চলতি বছরের এই তিনটি দিবসে অন্তত কয়েকশ’ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। মূলত এই তিন দিবস ঘিরে জমে ওঠে গদখালীর ফুলবাজার। অন্য সময়ের চেয়ে ফেব্রুয়ারিতে বেশি দামে ফুল বিক্রি হওয়ায় গাছের বাড়তি যত্নও নেন কৃষকরা। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফুলের দাম বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তবে গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে ফুলের বাজার কিছুটা ডাউন। গতকাল শুক্রবার সকালে কাকডাকা ভোরে চাষিরা বিভিন্ন যানবাহনে করে তাদের চাষের ফুল নিয়ে এসেছিলেন ফুলের পাইকারি বাজার গদখালীতে। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে সরব ফুলবাজারটি। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই ধারে বিভিন্ন জাতের ফুলের পসরা সাজিয়েছেন কৃষকরা। কেউ ভ্যান, কেউ সাইকেল, কেউ মোটরসাইকেল বা ঝুড়ির মধ্যে ফুল রেখে ঢাকা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দামাদামিতে ব্যস্ত। বাজারে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা দরে, যা গত মাসে বিক্রি হয়েছিল ২০ থেকে ২৫ টাকায়। প্রতি পিস রজনীগন্ধা বিক্রি হচ্ছে ৫-৭ টাকায়, যা আগে ছিল ১০-১৫ টাকা। রঙিন গ্লাডিউলাস প্রতিটি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১২ টাকা, যা আগে ছিল ১৫-২০ টাকা। জারবেরা বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। যা গত বসন্ত উৎসবের সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১০ থেকে ১২ টাকায়। তবে কৃষকরা বলছেন, এ বছর জারবেরার উৎপাদন বেশি হওয়ায় দামের খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
ফুল বাঁধাইয়ের জন্য কামিনীর পাতা বিক্রি হয়েছে প্রতি আঁটি ২০ টাকায়। জিপসির আঁটি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়, যা গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছিল। মালা গাঁথার জন্য চন্দ্রমল্লিকা বিক্রি হচ্ছে ১০০ ফুল ২০০ টাকায়। গাঁদা ফুল বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। লিলিয়াম প্রতি পিস বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা। দুই মাস আগে যা বিক্রি হয়েছিল ২০০-৩০০ টাকায়।

হাড়িয়া নিমতলা গ্রামের ফারুক হোসেন ৩০০ গোলাপ বিক্রির জন্য এনেছিলেন ফুলের বাজার গদখালীতে। তিনি বলেন, প্রতি ১০০ ফুল বিক্রি করেছি ৯৫০ টাকায়। যা গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ২ বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছি, এ বছর পচন রোগের কারণে উৎপাদন কম। তবে দাম ভালো হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে।
টাওরা গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম ৯ কাঠা জমিতে গোলাপ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ১০-১২ টাকা গোলাপের দাম ছিল। আজ (গতকাল) তা ৭-৮ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। তাছাড়া প্রচণ্ড গরমে বাজারে ক্রেতা সাধারণের সংখ্যা একটু কম মনে হচ্ছে।

পানিসারা গ্রামের সোহান আড়াই বিঘা জমিতে জারবেরা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এ বছর ফুলের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। গত মাসের তুলনায় আজকের বাজারে দাম একটু কম। জারবেরা ৮-১০ টাকায় বিক্রি করছি। গত মাসে যা ছিল ১৫-২০ টাকা। জারবেরা চাষের জনক খ্যাত নওশের আলী বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ফুলের বাজার খুব ভালো। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বাজারে বেচাকেনা খুব ভালো হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে আবহাওয়ার কারণে ফুলে নানা রকমের রোগব্যাধির আক্রমণ বেশি হচ্ছে।

সরজমিন দেখা যায় যে, যশোর-বেনাপোল হাইওয়ের পাশেই গড়ে ওঠা গদখালী ফুলের পাইকারি বাজারে এত বেশি ফুল এসেছে যে, জায়গা না পেয়ে যশোর-বেনাপোল সড়কের ওপরও ফুল রাখা হয়েছে। ফুলের চাষি আর ব্যাপারীদের পদচারণায় মুখর গোটা বাজার। মুহূর্তের মধ্যে ফুল কেনা-বেচা হয়ে যাচ্ছে। বাসের ছাদ, ট্রাক বা ট্রলিতে থরে থরে সাজিয়ে ফুল পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে।

ফুল ব্যবসায়ী রনি আহমেদ বলেন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আর ২৬শে মার্চের আগের বাজারে ২৫ টাকায়ও ফুল পাওয়া মুশকিল ছিল। সেই গোলাপ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ টাকায়। তারপরও কৃষকরা খুব খুশি। কারণ এ বছরের বেচাকেনা খুব ভালো যাচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘গাঁদা ফুলের দাম একটু কম ছিল, তবে এখন দাম একটু বেশি। বিয়ের মৌসুম চলছে তো, তাই গাঁদা ফুলের কদর বেশি। প্রতি হাজার গাঁদা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকায়।’
টাওরা গ্রামের আক্তারুল ইসলাম বলেন, এ বছর পচন রোগের কারণে গোলাপের উৎপাদন কম হয়েছে, এজন্য দাম বেশি।

গদখালী ফুলচাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, গদখালীর ৪০ শতাংশ ফুল ঢাকা ও চট্টগ্রাম এবং ৬০ শতাংশ ফুল চালানের মাধ্যমে পাইকারি দামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছোট-বড় বাজারে পাঠানো হয়। ওই চালানের হিসাব অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রায় দেড় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া গত দু’টি উৎসবে এই বাজারেই প্রায় ৫ কোটি টাকার ফুলের হাতবদল হয়েছে। যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এবার কৃষকরা ফুলের ভালো দাম পাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

যশোর শহর থেকে পশ্চিমে ২০ কিলোমিটার গেলে ঝিকরগাছার গদখালী বাজার। ফুলের সাম্রাজ্য হিসেবেই এ এলাকার পরিচিতি রয়েছে সারা দেশে। দেশের ফুলের চাহিদার বড় অংশই জোগান দেন এখানকার চাষিরা।
পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের কৃষক শাহ আলম এবার জমিতে জারবেরা আর গোলাপ চাষ করেছেন। জানালেন, এবার ভালো ফুল হয়েছে। বাজারে দাম গত বছরের চেয়ে একটু বেশিই। ফলে এবার যে পরিমাণ ফুল হয়েছে তা বিক্রি করে গত বছরের লোকসান পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

একই ইউনিয়নের পানিসারা গ্রামের রফিকুল ইসলাম এবার প্রায় সব ধরনের ফুলের চাষ করেছেন। তার মধ্যে গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস এবং রজনীগন্ধা নিয়ে তিনি এবার একটু বেশিই আশাবাদী। তিনি বলেন, গত ১১ই ফেব্রুয়ারি ও ১২ই ফেব্রুয়ারি ফুলের মূল ব্যবসা হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবস ঘিরেও জমে ওঠে গদখালীর ফুলের বাজার। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই ফুল রাজ্যকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মিনি পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ এই অঞ্চলের ফুলবাগানে বেড়াতে আসছেন। তারা সকলেই কমবেশি বিভিন্ন জাতের ফুল কিনছেন। এই ফুল বাজার ও ফুলের ক্ষেতকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে হোটেল, মোটেল ও বিভিন্ন প্রকারের খাবার দোকানের ব্যবসা জমে উঠেছে। চলছে নানা রকমের মেলা ও পার্বণ।

গদখালীর ফুলচাষিরা জানিয়েছেন, এবার দিনে তুলনামূলক গরম একটু বেশি হওয়ার কারণে আগে থেকেই গোলাপ ফুটে যাচ্ছে। সেই কারণে কৃষক বাধ্য হচ্ছেন ক্ষেত থেকে ফুল কেটে বাজারে তুলতে। সে কারণে দাম গত ২ মাসের তুলনায় কিছুটা কম। তারা জানাচ্ছেন, মাঝে একটানা বৃষ্টির কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্লাডিওলাস। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অধিকাংশ কৃষক একসঙ্গে সব ফুল চাষ করছেন। যে কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। দাম কম হওয়ার এটিও একটা কারণ বলে মনে করেন তারা। তবে গত বছরের তুলনায় এবারের বাজার বেশ চড়া বলছেন ক্রেতা সাধারণ। তবে সরবরাহ যেহেতু বেশি সেই কারণে আর্থিকভাবে লাভবানই হবেন বলে ফুলচাষিরা আশা করছেন।
চাষিরা বলেন, বছরের শুরু থেকে মার্চ- এই তিন মাস ফুলের প্রধান সিজন থাকে। এ সময় ইংরেজি নিউ ইয়ার, ফাল্গুন উৎসব, ভালোবাসা দিবস এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সব থেকে বেশি ফুল বিক্রি হয়। ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসেও ফুলের চাহিদা থাকে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও স্বাধীনতা দিবসে গাঁদাফুলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এই সিজনের বাইরে বাংলা নববর্ষেও ফুলের একটা ব্যবসা হয় বলে জানালেন ফুলচাষিরা।
গদখালী ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, গত ফেব্রুয়ারি আর মার্চ মাসের বাজার মূল্যের তুলনায় বর্তমান বাজারে ফুলের দাম একটু কম মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, এবছর জেলার প্রায় এক হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে এবার ফুলের চাষ করেছেন প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কৃষক। তারমধ্যে গদখালী সহ ঝিকরগাছা উপজেলার ৫৫টি গ্রাম এবং যশোর সদর, ঝিকরগাছা, শার্শা ও কেশবপুর উপজেলার ২০টি সহ মোট ৭৫টি গ্রামে ফুলচাষ হয়েছে। তিনি জানান, গদখালী থেকে সারা দেশেই ফুল নিয়ে যান পাইকাররা। তারমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ফুল যায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে। বাকি ফুল যায় অন্যান্য জেলায়। এরমধ্যে পার্বত্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভোলা এবং উত্তরবঙ্গ-প্রতিটি জেলাতেই যশোরের ফুলে উৎসবে রাঙান দেশের মানুষ।
পর্যটকদের জন্য রয়েছে আধুনিক আরও নানা আয়োজন। স্থাপিত কয়েকটি পার্কে ফুলের বাগানের মধ্যে রয়েছে নানা রাইড। সবমিলিয়ে জমজমাট গদখালি ও পানিসারা।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল- এই পাঁচ মাস ফুলচাষিদের সোনালি সময়। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, খ্রিষ্টীয় ও বাংলা নববর্ষ, ভালোবাসা দিবস, বসন্ত বরণ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতেই এখানকার ফুল সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। বছরের প্রায় অর্ধেক ব্যবসা এই দিনগুলোতেই হয়। গদখালী-পানিসারার ফুলচাষিদের তাই এখন দম ফেলার ফুরসত নেই।

তিনি বলেন, আবহাওয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এই এলাকা থেকে বছরে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ কোটি টাকার ফুল কেনাবেচা হয়। যার অর্ধেকটাই আসে এই ডিসেম্বরের শুরু থেকে এপ্রিলের মধ্যেকার বিশেষ দিবসগুলোতে।

ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। এ বছর দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বিশেষ দিবসগুলোতে চাষিরা ভালো লাভ ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন