সত্যের দীপশিখায় মানবজমিনের অনির্বাণ যাত্রা

ফন্ট সাইজ:

প্রতিষ্ঠা থেকে ত্রিশের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ানো একটি সংবাদপত্রের গল্প কখনোই কেবল যাত্রাপথের পরিমাপ নয়- এক ধারাবাহিক বোধের বিকাশ, এক নৈতিক অবস্থানের পরিণতি, এক জনমুখী মতাদর্শের প্রতিফলন এবং একটি সমাজের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের নির্মাণ। দৈনিক মানবজমিন সেই অর্থে কেবল একটি সংবাদপত্র নয়-এটি এক দীর্ঘ সাংবাদিকতাগত সাধনার ফল, যা গড়ে উঠেছে সত্য, সাহস এবং দায়বদ্ধতার সম্মিলনে। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে এই যাত্রা ধীরে ধীরে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে সংবাদপত্রের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা, দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের বিবেকী কণ্ঠস্বর এবং গণমানুষের নিজস্ব গণমাধ্যমের প্রতীক।

মানবজমিন পত্রিকার সূচনা কোনো আকস্মিকতার ঘটনা ছিল না। এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে আরও পেছনে-বাংলাবাজার পত্রিকার অভিজ্ঞতায়, যেখানে এক ভিন্নধর্মী সম্পাদনা-দর্শনের বীজ বপন করেছিলেন অগ্রণী সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। সেই দর্শনে সংবাদ মানে কেবল তথ্য পরিবেশন নয়। বরং মানুষের জীবন, বেদনা, আশা এবং সংগ্রামের অন্তর্গত সত্যকে প্রকাশ করা। দীর্ঘ সম্পাদকীয় অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিণত হয়েছে এক সুসংহত চেতনায়, যা মানবজমিনকে দিয়েছে তার স্বাতন্ত্র্য অভিব্যক্তি।

মানবজমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার নিজস্ব ভাষা, বিন্যাস, সংবাদ-চয়নের পাশাপাশি ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে জনগণের পক্ষ নিয়ে প্রশ্ন করার ক্ষমতায়। এটি এমন এক কণ্ঠ, যা সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলে, কিন্তু অসাধারণ প্রশ্ন তোলে। সমাজের প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা, যাদের কণ্ঠস্বর প্রায়ই ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে উপেক্ষিত হয়, সেই কণ্ঠকে মূলধারায় নিয়ে আসাই মানবজমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর প্রতিটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয় একটি অদম্য প্রত্যয়-সত্যকে প্রকাশ করতেই হবে, তা যতই অস্বস্তিকর ও চ্যালেঞ্জিং হোক।

বিভাজিত বাংলাদেশের ততোধিক বিভাজিত গণমাধ্যম পরিসরে মানবজমিনের স্বাতন্ত্রিক নিজস্বতায় আলাদা ও উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছানো সহজ ছিল না। রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, পেশাগত ঝুঁকি-সবকিছুর মধ্যদিয়েই এগিয়ে এসেছে এই পত্রিকা। প্রতিটি সংকট যেন এর সম্পাদকীয় অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। ত্যাগ ছিল অবধারিত-কখনো ব্যক্তিগত, কখনো প্রাতিষ্ঠানিক। কিন্তু সেই ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এক অমূল্য সম্পদ: পাঠকের আস্থা। আর এই আস্থাই একটি সংবাদপত্রের প্রকৃত শক্তি, যা ধারণ করে মানবজমিন চির তরুণ ও অদম্য।

সাংবাদিকতা মানবজমিনের কাছে নিছক পেশা নয়, বরং এক দীর্ঘ সাধনা। এই সাধনার মধ্যদিয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী শুধু নিজেকে বৈশিষ্ট্য-দীপ্তিতে নির্মাণ করেননি; তিনি নির্মাণ করেছেন একাধিক প্রজন্মের সাংবাদিককে। মানবজমিন তাই হয়ে উঠেছে এক অনানুষ্ঠানিক শিক্ষালয়, যেখানে শেখানো হয় কেবল সংবাদ সংগ্রহ নয়, বরং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহস। এখানে সাংবাদিকতা মানে প্রশ্ন করা, অনুসন্ধান করা এবং সবচেয়ে বড় কথা-আপস না করা।
ত্রিশ বছরের এই অভিযাত্রা একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার আগে ও পরে যে সাংবাদিকতার ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল-যেখানে সংবাদপত্র জাতির কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল-সেই ধারার সঙ্গে মানবজমিনের একটি গভীর পেশাগত-নৈতিকতার সম্পর্ক রয়েছে। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার নেতৃত্বে দৈনিক ইত্তেফাক কিংবা দৈনিক আজাদ যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল, তা ছিল এক ধরনের জাতীয় চেতনার নির্মাণ। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে একক ভাবে কোনো সংবাদপত্র এগিয়ে আসতে পারে নি। কিন্তু মানবজমিন নতুন বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে নতুন ভাষা ও নতুন প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয়েছে। জাতির আশা ও প্রতীতির সমান্তরালে চলার চেষ্টা করেছে।

সেই পথ ছিল বিপজ্জনক ও কণ্টকময়। কারণ, গণমাধ্যম এখন বহুমাত্রিক এবং একই সঙ্গে, বিভক্ত। মত ও পথের পার্থক্য অনেক ক্ষেত্রে বিভাজনে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মানবজমিন দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক সুশাসনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত জাতীয় বয়ান নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশে বহুত্ববাদী সমাজের বহুবর্ণ বাস্তবতাকে ধারণ করেছে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফরম তৈরি করার মাধ্যমে।

দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের বাইরে গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য সহায়ক সমন্বয়মূলক, মধ্যপন্থি, উদার ও সকলের জন্য কল্যাণকর পথরেখা নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে মানবজমিনের স্বচ্ছ নেতৃত্বের দৃঢ়তায়। যে নেতৃত্বে রয়েছেন মতিউর রহমান চৌধুরী। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং আপসহীন অবস্থান মানবজমিনকে দিয়েছে এক বিশেষ উচ্চতা। তিনি ক্ষমতার প্রলোভন কিংবা চাপের কাছে নত হননি। বরং ক্ষমতার কাঠামোকেই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। এই অবস্থান কোনো সহজ অর্জন নয়। এর পেছনে রয়েছে ত্যাগ, সংগ্রাম, বহু অদৃশ্য আঘাত এবং ক্ষমতাধর প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষতচিহ্ন।

আঘাতকে প্রত্যাঘাতে পরিণত না করে দীর্ঘ পথযাত্রায় মানবজমিনের মাধ্যমে মতিউর রহমান চৌধুরী প্রতিপক্ষের উত্তর দিয়েছেন কাজের নিরিখে। ক্ষমতার মেরূকরণের মাধ্যমে নয়, সাংবাদিকতার মূল শক্তি তথা সততা ও শুদ্ধতার শক্তিতে তিনি সকল বিরূপতাকে এড়িয়ে চলেছেন। তাই মানবজমিন কেবল তথ্য পরিবেশনে ব্যস্ত ছিল না, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহসে উদ্দীপ্ত ছিল বিগত দিনগুলোর প্রতিটি ক্ষণে। অন্যায়, নিপীড়ন কিংবা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্পাদকের কলম কখনো থেমে থাকেনি। বরং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে তা আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে, আরও স্পষ্ট হয়েছে। এভাবেই সত্যের প্রতিচ্ছবি ধারণ করেছে মানবজমিনের প্রতিটি পাতা, শব্দ ও অক্ষর।

মানবজমিনের সম্পাদকীয় দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক বিশ্বাস: একটি সংবাদপত্র কেবল সংবাদ পরিবেশন করে না। এটি জাতির বিবেক হয়ে ওঠে। আর সেই বিবেককে কলুষমুক্ত রাখতে হলে প্রয়োজন সততা, সাহস এবং আত্মত্যাগের সমন্বয়। এই মূল্যবোধই মানবজমিনের প্রতিটি স্তরে প্রবাহিত-সম্পাদক থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মীর মধ্যে।

এই কারণে মানবজমিন এবং মতিউর রহমান চৌধুরীর জীবন ও কর্ম একে অপরের পরিপূরক। ব্যক্তির আদর্শ প্রতিষ্ঠানের চেতনায় রূপ নিয়েছে আর প্রতিষ্ঠান সেই আদর্শকে বহন করছে কঠিন বাস্তবতায়। ফলে মানবজমিন আজ কেবল একটি পত্রিকা নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এটি এক ধারাবাহিক প্রতিরোধের ইতিহাস, এক নৈতিক সহযোদ্ধার প্রতীক।

মানবজমিনের ত্রিশ বছরের এই প্রান্তে এসে একটি নতুন বাস্তবতা সামনে এসেছে। মতিউর রহমান চৌধুরী জীবনব্যাপী সাংবাদিকতা ও সম্পাদনার পর্যায় পেরিয়ে এখন কেবল একটি পত্রিকার সম্পাদক নন। তিনি সম্পাদক-মালিকদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বেও অবস্থান করছেন। এই অবস্থান তাঁর দায়িত্বকে আরও বিস্তৃত করেছে। এখন তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ সাংবাদিকতাকে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের-সীমানা ছাড়িয়ে একটি বৃহত্তর জাতীয় পরিসরে উত্তীর্ণ করা এবং দেশের আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক গতিপথে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক সুশাসনের অভিমুখে প্রাণিত রাখা। তাঁর এই দায়িত্ব ঐতিহাসিক নিয়তির অংশ এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা মাত্র। কারণ, তাঁকে বাস্তবতার দাবি মেনেই সম্পাদক হিসেবে এবং সংবাদপত্র সম্পাদক-মালিকদের নেতা হিসেবে উত্তরপুরুষদের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে হবে, যা অঙ্কিত হয়েছে মাওলানা আকরম খাঁ, মানিক মিয়া, আবুল কালাম শামসুদ্দিন, জহুর হোসেন চৌধুরী, আবুল মনসুর আহমদের মাধ্যমে। যেমনভাবে তাঁদের কলম ন্যায়বোধের ভিত্তিতে জাতির চেতনার জাগরণী সঞ্জীবনীতে এবং তাঁদের নেতৃত্ব প্রতিরোধের শক্তিতে পরিণত হয়েছিল, মতিউর রহমান চৌধুরীর সামনেও আজকের বাস্তবতায় উপস্থিত হয়েছেন সেই অভিন্ন দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার।

বহু উত্থান-পতনের পর সংকুলতা পেরিয়ে নবতর বাংলাদেশের দৃশ্যপটে সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার আজ নতুন করে ধারণ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা এখনো একটি চলমান প্রক্রিয়া-যেখানে অগ্রগতি যেমন আছে, তেমনি আছে পশ্চাদপসরণের ঝুঁকি। এই প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের ভূমিকা কেবল তথ্য প্রদান নয়; বরং একটি নৈতিক দিকনির্দেশনা দেয়া। আর এখানেই সম্পাদক হিসেবে মতিউর রহমান চৌধুরীর এবং পত্রিকা হিসেবে মানবজমিনের সামনে দ্বৈত দায়িত্ব স্পষ্ট হয়। প্রথমত, তার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ধারাকে অক্ষুণ্ন রাখা; দ্বিতীয়ত, একটি বৃহত্তর জাতীয় সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করা। এমন একটি পরিসর, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকলেও বিভাজন থাকবে না। বিতর্ক থাকলেও বিদ্বেষ কিংবা হিংসা থাকবে না। এই কাজ সহজ নয়। বরং এটি এক কঠিন, কণ্টকাকীর্ণ পথ। প্রতিনিয়ত চাপ, প্রলোভন এবং ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার বিপদ যেখানে তীব্রতর। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, যে কণ্ঠ সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, সেই কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। আর সেই টিকে থাকার মধ্যেই নিহিত থাকে একটি জাতির নৈতিক শক্তি, আজকের বাস্তবতায় যা ধারণ করছে মানবজমিন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। তথ্যের প্রাচুর্যের যুগে সত্যকে আলাদা করে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় মানবজমিন তথ্যনির্ভর, গবেষণাভিত্তিক এবং বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। মানবজমিন পোস্ট-মর্ডান এবং পোস্ট-ট্রুথ যুগের আবহে প্রযুক্তির সীমাহীন চ্যালেঞ্জকে বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের শুদ্ধতম সাংবাদিকতার একটি নতুন ও গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড স্থাপন প্রয়াসী, যা তাকে অগ্রণী ও পথ-প্রদর্শকের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

একই সঙ্গে বর্তমান ও আগামীর চাহিদার আলোকে মানবজমিন প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের একটি স্বচ্ছ ও পরিশীলিত রূপরেখাও তুলে ধরেছে। যার ভিত্তিতে মানবজমিন নিজেকে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফরম হিসেবে গড়ে তুলতেও সক্ষম হয়েছে। যেখানে নীতিনির্ধারণী সংলাপ, গবেষণা এবং জনসম্পৃক্ততা একত্রিত ও আরও বিস্তৃত হয়েছে। তাই মানবজমিন কেবল একটি সংবাদপত্র নয়। বরং একটি চিন্তাশীল সমাজ নির্মাণের অংশ। সম্পাদক কেবলমাত্র কলমসৈনিকই নন, সাংবাদিকতার বিকাশ ও উন্নয়নের নেতৃত্ব প্রদানকারী সারথি।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একটি সচেতন নাগরিক সমাজ। আর সেই সচেতনতা তৈরিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ভূমিকা অপরিহার্য। কারণ, গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তথ্য প্রবাহ মুক্ত থাকে এবং ক্ষমতার প্রতিটি স্তর জবাবদিহিতার আওতায় আসে। মানবজমিন এই চিরায়ত বিশ্বাসে ঋদ্ধ এবং সর্বদাই নাগরিক সমাজ ও পাঠক সাধারণের সহযাত্রী। এ কাজে মানবজমিন কেবল শহরের নয়, গ্রামাঞ্চলের কণ্ঠস্বরও বহন করছে। কেবল কেন্দ্রের নয়, প্রান্তের কথাও তুলে ধরছে। বিশ্বের প্রধানতম বাংলাভাষী রঙিন ট্যাবলয়েড হিসেবে বৈশ্বিক বাংলাদেশি নাগরিক সমাজকেও অঙ্গীভূত করেছে মানবজমিন। যার নিরিখে বাংলাদেশের জন্য গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির আলোকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় বয়ান নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে মানবজমিন।

মানবজমিনের ত্রিশ বছরের এই যাত্রার তাই কোনো সমাপ্তি নেই। প্রতিদিন, প্রতিবছর একটি নতুন সূচনার প্রান্তরেখা ছুঁয়ে মানবজমিন পৌঁছে যায় নতুন দিগন্তে। অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের দৃঢ়তা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন-এই তিনের সমন্বয়ে মানবজমিন সামনে এগিয়ে যেতে থাকে চিরন্তন পদাতিকে সুচিন্তিত ও সুচারু পদক্ষেপে। এবং শেষ পর্যন্ত সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস অটুট রাখার সংগ্রামে অনির্বাণ যাত্রা অব্যাহত রাখে মানবজমিন। ফলে মানবজমিন শুধু একটি প্রথাগত পত্রিকা হিসেবে নয়, বরং দেশ ও জাতির বিবেকের জীবন্ত অস্তিত্বের জানান দিতে থাকে লক্ষ-কোটি মানুষের কাছে: প্রতিটি ভোরের মুদ্রিত কাগজে এবং প্রতিক্ষণের অনলাইনের ভার্সনের মাধ্যমে।

অতএব, ত্রিশের মাহেন্দ্রক্ষণের শুভেচ্ছামাখা প্রত্যয় নিয়ে বলা যায়-মানবজমিনের যাত্রা অনির্বাণ। কারণ তার দীপশিখা জ্বলে সত্যের আলোয় আর সত্যের সাহসী আলো কখনো নিভে যাওয়ার নয়।

লেখক: প্রফেসর ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন