আরেকটি বিশ্বকাপ ভাবনায় লিটন

আরেকটি বিশ্বকাপ ভাবনায় লিটন

ফন্ট সাইজ:

ভারতে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। সরকারের ওই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এখনো চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। সবশেষ বৈশ্বিক আসরটি খেলা হলে অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বে চূড়ান্ত পরীক্ষাটা দেয়া হতো টাইগারদের। তবে টাইগার অধিনায়কের আশা এখনই পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলের নেতৃত্ব দেবেন এই নির্ভরযোগ্য উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। হাতে আছে আরও প্রায় দুই বছর সময়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে লিটনের নতুন যাত্রার মূল প্রস্তুতি পর্ব। গত আসর মিস করার যাবতীয় আক্ষেপ ভুলে কিউইদের বিপক্ষে জয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্বাগতিকরা।

নতুন খেলোয়াড়দের পরখ করার পাশাপাশি নিজেদের সব খামতি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চান অধিনায়ক। দলের ভেতরে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত প্রয়োগের ক্ষেত্রে দারুণ ক্ষমতা ও স্বাধীনতা উপভোগ করছেন। দল পরিচালনা ও নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘প্রথমত আমি অনেক স্বাধীন। আমি আমার মতন করেই টিম গোছাচ্ছি। সাথে সিলেক্টররা আছে, সাথে কোচ আছে। তো আমাদের যে সবার প্ল্যানিংয়ে আমরা এই টিমটাকে চেষ্টা করছি আগে নিয়ে যাওয়ার।’ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত বোধ করছেন আজ। দলের আগামী দিনের লক্ষ্য নিয়ে বেশ পরিষ্কার ধারণা রাখেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। লিটন পরবর্তী আসরের ভেন্যু এবং কন্ডিশন মাথায় রেখেই এখন থেকে ছক কষছেন তিনি।

ঘরের মাঠে চেনা পরিবেশের বাইরে গিয়েও ভালো করার তাগিদ রয়েছে। আগের আসরের আগে দলের ভেতর তৈরি হওয়া দারুণ বোঝাপড়া ধরে রাখতে মরিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট। নতুন আসরের জন্য সেই পুরোনো রসায়নই হতে পারে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। নিজের লক্ষ্য এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে লিটন বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য যে বিশ্বকাপ, সেটা তো আমরা জানি যে এশিয়াতে নয়। তাই ওভাবেই চিন্তাভাবনা করব। যেহেতু আমাদের একটা বন্ডিং হয়েছিল খুবই ভালো, গত বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও খুব ভালো ছিল, চেষ্টা করব ওখান থেকেই যেন
দলটাকে ভালো করে ধরে রাখা যায়।’ দল হিসেবে বাংলাদেশের ঘাটতির জায়গাগুলো নিয়েও বেশ সচেতন রয়েছেন অধিনায়ক। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সব বিভাগেই সমান অবদান রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। খেলোয়াড়দের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন লিটন। তিনি বলেন, ‘দুর্বলতা জিনিসটা হচ্ছে দেখেন, প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টেরই তো যার যার জায়গা ডিপার্টমেন্ট আছে।

আমি যদি অ্যাজ অ্যা ব্যাটসম্যান হিসেবে বলি, আমরা যদি আমাদের রোলটা প্লে করি তাহলে শেষের ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকানোর কোন দরকার নাই। আবার বোলাররা যদি বোলারের রোল প্লে করে দেয় তাহলে তো আর ব্যাটসম্যানদের কোন কিছু নাই।’ শীর্ষ ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করলে দলের ভারসাম্য অটুট থাকে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সফল হতে হলে ব্যাটিং অর্ডারের গভীরতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দলগুলো দারুণ ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে মাঠে নামে। বাংলাদেশ দলও ঠিক একই পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে। অলরাউন্ডাররা বল হাতে অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যাট হাতে রান পেলে দলের চেহারা পাল্টে যাবে। লীগ ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মিডল অর্ডারে শক্ত ভিত্তি গড়তে চায় ম্যানেজমেন্ট।

লিটন আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, ‘সাথে আমাদের যে অলরাউন্ডারগুলো আছে তারা বোলিংয়ের সাথে যদি আমাদেরকে ব্যাটিং দিতে পারে তাহলে একটা হেলদি ব্যাটিং অর্ডার তৈরি হয়। আপনি দেখবেন যে বড় বড় টিমগুলোতে সবগুলারই ডেপথ অনেক বড়। নয় নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং থাকে। তো ওই ডেপথটা যদি আমরা তৈরি করতে পারি তাহলে মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানরা ওপর থেকে আরও ফ্রিলি গেম খেলতে পারবে।’



ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন