নিরাপত্তা চাইলেন জামায়াতের এমপি, অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করলো সরকার

ফন্ট সাইজ:

পেশাদার খুনি দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তুলে নিজের এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন বিরোধীদলের সাংসদ মাছুম মোস্তফা। এই ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা বলে বিরোধী দলের সাংসদকে আশ্বস্ত করেছো সরকার। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ দাবি করেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মাছুম মোস্তফা ঘটনা তুলে ধরে সংসদে বলেন, মাগরিবের আজান হয়ে যায়। আমি ফিলিং স্টেশনের সেখানে নামাজের জায়গা, সেখানে নামাজ পড়তে যাই আমার লোকজনসহ। এই মুহূর্তে বিএনপির কিছু লোক, তারা বিএনপির নাম ধারণ করেছে, তারা সন্ত্রাসী। তারা আমার গাড়ির ওপর হামলা চালায়।

তিনি বলেন, আমার লোকজন যারা সাউন্ড শুনে আসে তাদের ওপরে হামলা করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। আমি যে মসজিদে ছিলাম, সেই মসজিদে গিয়ে আমাকে খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা করে। মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে, সেই মসজিদের দরজা ভাঙ্গার জন্য বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তারা দরজার ওপর আঘাত করে।

জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাকে গালিগালাজ করে, আমাকে মারার জন্য হুমকি দেয় এবং তারা আমাকে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আমি শুনতে পাই যে, সেখানে পেশাদার কিলারকে নেয়া হয়েছিল- যাতে আমাকে হত্যা করা হয়। যদি মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে তারা দরজা ভাঙতে পারে নাই।

স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, হয়ত আমার জন্য এখানে শোক প্রস্তাব আনতে হতো এবং আমার জন্য হয়তো আপনার এক মিনিট নীরবতা পালন করতে হতো।

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি আপনার কাছে আমি আমার নিরাপত্তা চাই, আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই, আমাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমি আমার এলাকার সংগঠনের কর্মীদের নিরাপত্তা চাই। আর আমাকে জনগণ জিজ্ঞেস করেছে যে, কী অপরাধে আপনার ওপর হামলা করা হলো? আমি অপরাধটা বলতে পারি নাই।

এ সময় স্পিকার ওই সংসদ সদস্যকে বলেন, আপনার কথা শুনলাম, এখন আপনি আমার কথাটা অনুগ্রহ করে শুনেন। আমি পত্রিকায় দেখলাম যে, আপনার এই ঘটনাটি হয়েছে এবং পুলিশ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এসময় নিরাপরাধ লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে স্পিকারের উদ্দেশে মাছুম মোস্তফা বলেন, পুলিশ যাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে ১জন শুধু তালিকাভুক্ত আসামি। বাকিরা সবাই নিরপরাধ। আজকে ৯ জনের জামিনে চলে আসছে। আর যারা আসামি ছিলেন তারা সকলেই মিছিল করছেন, এই মুহূর্তে আমার কাছে ফোন এসেছে। তারা মিটিং করছে। অপরাধীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি এসপি মহোদয়কে বলেছি যে, অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আমি আপনার মাধ্যমে আমার নিরাপত্তা চাই এবং আসামি যেনও গ্রেপ্তার হয়- তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। আমি আপনার কাছে সহযোগিতা চাই।
পরে স্পিকার বলেন, ধন্যবাদ, আপনি দয়া করে বসুন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন সংসদ সদস্যের ওপরে হামলা।

এ প্রেক্ষিতে সংসদে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংসদ সদস্যকে জানাতে চাই, যে ব্যাপারটা ঘটেছে- সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সবাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি এবং এতে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত বোধ করেছি। আমাদের সংসদ নেতা পাশেই বসে আছেন। তিনি আমাকে বলেছেন যে, তিনি নিশ্চিত করবেন যেন এটা সুষ্ঠু একটি তদন্ত হয়। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৯ জন অলরেডি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং এটা আরও সুষ্ঠু তদন্ত করে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে। পুরো সংসদ এ বিষয়ে আমরা একমত, আপনার এ বিষয়ে যাতে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এসময় স্পিকার বলেন, যারা প্রকৃত অপরাধী তাদেরকে ধরার ব্যাপারে মন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, আপনি ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষা করুন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন