এফএ কাপের সেমিফাইনালে এক নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ৭৯তম মিনিটের গোলের উল্লাসে ফেটে পড়লো সাউদাম্পটন। তবে এরপর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানেই যেন সব ভোজবাজির মতো পাল্টে গেল। চোখের পলকে দুই গোলে গেল ম্যানচেস্টার সিটি। সেই গোল আর শোধ দিতে পারলো সাউদাম্পটন। ২-১ গোলের জয়ে ইতিহাস গড়েই ফাইনালে পা রাখলো সিটিজেনরা। ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা চারবার এফএ কাপের ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়লো পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
শনিবার রাতের সেমিতে ম্যাচ জুড়ে ছিল সিটির আধিপত্য। তবে নাটকের অনেক বাকি ছিল। প্রথমার্ধে আটটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা সিটিজেনরা গোল পেতে ব্যর্থ হয়। বিরতির পর উল্টো ৭৯তম মিনিটের ফিন আজাজের দুর্দান্ত এক গোলে জয়ের স্বপ্ন বুনতে থাকে সাউদাম্পটন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে শরীর ঘুরিয়ে আজাজের নেয়া সেই জোরালো শট গোলকিপার জেমস ট্রাফোর্ডকে পরাস্ত করলে গ্যালারিতে উল্লাসে মাতে সাউদাম্পটন সমর্থকরা।
তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি সিটি। পিছিয়ে পড়ার স্রেফ তিন মিনিটের মাথায় প্রতি আক্রমণে সমতা ফেরান জেরেমি ডোকু। ডোকুর নেয়া শটটি সাউদাম্পটনের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। সমতায় ফেরার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সিটি। তারই ধারাবাহিকতায় ৮৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি আসে নিকো গঞ্জালেসের পা থেকে। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে গঞ্জালেসের বুলেট গতির শটটি জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিটির নাম ইতিহাসের পাতায় লিখে দেয়। গঞ্জালেসের গোলের আগে গোলকিপার জেমস ট্রাফোর্ড একটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে সিটিকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। বদলি হিসেবে নামা আর্লিং ব্রুট হালান্দ গোল না পেলেও সিটির আক্রমণভাগে ভীতি ছড়ান। এ জয়ের ফলে লীগ কাপ জয়ী সিটির সামনে এখন ‘ঘরোয়া ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হলো।
আগামী ১৬ই মে ওয়েম্বলিতেই অনুষ্ঠিত হবে এফএ কাপ ফাইনাল। সেখানে সিটির প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে চেলসি অথবা লিডস ইউনাইটেড। আজ দ্বিতীয় সেমিতে মুখোমুখি হবে এ দু’দল। ফাইনালেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারলে অষ্টমবারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে সিটি।
