৫ আগস্ট ২০২৪, দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারছেন না। অন্যদিকে দেশে থাকলেও নিজেকে সবকিছু থেকে আড়াল করে নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাদের অপরাধ তারা পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি ছিলেন।
পরিস্থিতি এমন যে তাদের ছবি বা ব্যানার নিয়ে মাঠেও ঢুকতে পারছেন না ভক্ত সমর্থকরা। তবে তারা রাজনীতি করলেও বড় পরিচয় দু’জনই দেশের ক্রিকেটের হিরো। সবশেষ চট্টগ্রাম সাগরিকা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজে পুলিশ ও মাঠের নিরাপত্তাকর্মীরা এই দুই তারকার ছবি নিতে বাধা দেন ভক্তদের। এমন অবস্থা আর কত দিন চলবে? মাশরাফি-সাকিবের ভক্তরা কি মাঠে ছবি নিতে পারবেন না! এ নিয়ে ভক্তদের অনেকটাই সুখবর দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও ফিন্যান্স চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু। তার আরেক পরিচয় তিনি দেশের ক্ষমতায় থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতা ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে।
দুই তারকার ভক্তদের জন্য তিনি শুনিয়েছেন আশার বাণী। মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘দেখেন তারা সবার আগে দেশের ক্রিকেটার। আমরা বিষয়টা দেখবো যেন তাদের ছবি বা ব্যানার মাঠে দর্শকরা নিতে পারে। সভাপতির (তামিম ইকবাল) সঙ্গে আমরা এ নিয়ে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ সাকিব-মাশরাফি ইস্যুর পাশাপাশি বিসিবি’র সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হারানো আস্থা ফেরানো। গ্যালারিতে দর্শক খরা চলছে। স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও চরম হতাশা বিরাজ করছে বোর্ডে। ঘরোয়া আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট ‘লীগ’ বা বিসিএলে বর্তমানে কোনো স্পনসর নেই। অথচ একসময় এসব নিয়ে দেশের শীর্ষ এই ক্রীড়া সংস্থাকে কোনো চিন্তাই করতে হতো না। মানুষের বিশ্বাস এখন তলানিতে নেমেছে। এই কঠিন সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে অ্যাডহক কমিটি। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ‘লীগ’ (বিপিএল) নিয়েও তাদের রয়েছে বড় পরিকল্পনা। দেশের ক্রিকেটের এই দুরবস্থায় ফিন্যান্স কমিটির প্রধান মনে করেন, খেলোয়াড়দের ঠিকমতো সমর্থন দিলেই ক্রিকেটের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরবে। এই প্রসঙ্গে ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘বিপিএল আমাদের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। এটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে আমাদের এখন নিয়মিত বিস্তারিত কথা হচ্ছে। আমরা চাই এই টুর্নামেন্ট আর্থিকভাবে আরও বেশি লাভজনক হোক। মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ।
বোর্ড নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন আছে। আমরা কাজের মাধ্যমে সেই ভুল ধারণা বদলাতে চাই।’ বোর্ডের আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের কল্যাণে বিশেষ নজর দিচ্ছে বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা নামমাত্র বেতনে খেলছেন। মাত্র পঁয়ত্রিশ হাজার টাকায় একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জীবনযাপন করা অত্যন্ত কঠিন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। খেলোয়াড়রা যেন শুধু খেলাতেই পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারেন, সেটাই এখন নিশ্চিত করতে চায় বোর্ড। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে প্রতিটি খাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নিরীক্ষা চলছে। এছাড়া বিপদে পড়া দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়াতে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আছে। হ্যাঁ, ক্রিকেটারদের জন্য একটি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ফান্ড থাকা জরুরি। ক্রিকেটাররা বিপদে পড়লে যেন সহায়তা পায়, সেটার জন্য আমরা কাজ করছি।
আগামী নব্বই দিনের মধ্যে এটি সফলভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। আমরা প্রতিটি খাতের হিসাব খুব গভীরভাবে নিরীক্ষা করছি।’ অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোগত উন্নয়ন ও পাইপলাইন শক্তিশালী করার দিকেও নজর রাখছে নতুন এই পরিচালনা পর্ষদ। গতকাল গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে অবকাঠামো সংস্কারের বিষয়টি বারবার উঠে আসে। দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে চট্টগ্রামে কোনো প্রথম বিভাগের ‘লীগ’ এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। মাঠে খেলা না থাকলে প্রতিভাবান কোনো নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ নেই। তাই শুধু জাতীয় দল নয়, দেশের সব বয়সভিত্তিক ও বিভাগীয় পর্যায়ে খেলা শুরু করতে চায় সংস্থাটি।
বিসিবির আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্জিত অর্থ ক্রিকেটের পেছনেই খরচ করার কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছে ফিন্যান্স কমিটি। দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা ও অনুশীলনের মান বাড়াতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরাফিল খসরু বলেন, ‘অতীত নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। বিসিবির অনেক রিসোর্স আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমাদের নতুন খেলোয়াড়দের পাইপলাইন। খেলা যত বাড়বে, পাইপলাইন তত শক্তিশালী হবে। প্রিমিয়ার ‘লীগ’ খুব শিগগিরই মাঠে শুরু হবে।’

BAD MOUTH
১ মাস আগেজীবন্ত কবর হয়েছে তাদের। তাহলে ওবায়দুল কাদের ও অন্যরা কি দোষ করলো ?