এনসিপিতে যুক্ত হলেন ইসহাক সরকার শেরেবাংলার নাতনিসহ কয়েকজন

ফন্ট সাইজ:

বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)তে যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। গতকাল বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক অনুষ্ঠানে তারা এনসিপিতে যোগদান করেন। ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে এনসিপি’র আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যরা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন। নাম ঘোষণার পর ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেলা সোয়া তিনটার দিকে আইডিইবিতে এসে পৌঁছান এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এনসিপি’র নেতাকর্মীরা তাদের স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসেন। উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। প্রথমে বক্তব্য দেন এনসিপি’র ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার। বক্তব্য দেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে এনসিপি’র মনোনীত প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেল। এনসিপিতে যোগদানকারীদের নাম ঘোষণা করে নাহিদ বলেন, এনসিপিতে কেন্দ্রীয়ভাবে যোগ দিচ্ছেন ফেরসামিন হক ইকবাল।

তিনি বিদেশে আছেন। তিনি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি। বরিশালের কৃতী সন্তান হিসেবে তিনি এনসিপিতে কাজ করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ নুরুজ্জামান কাফিকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এনসিপিতে স্বাগত। জুলাইয়ের সহযোদ্ধা মহিউদ্দিন রনিকেও স্বাগত জানাই। আমরা সবাই এনসিপিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবো।
ইসহাক সরকারকে এ আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইসহাক সরকারকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন নেই। ছাত্রদল, যুবদলে তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ছিল। তিনি আমাদের সহযোদ্ধা। তিনি আগে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, এখনো বিরোধী রাজনীতিই করবেন।

অনূভূতি প্রকাশ করে ইসহাক সরকার বলেন, তাঁবেদারি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধে আবারো মাঠে নামতে হবে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের মতো একই কায়দায় ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে তাদের পতন ঘটানোর জন্য আমরা রাজপথে নেমে আসবো, বেশি সময় নেবো না। যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় আমাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদের সঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলাম। আমি মনে করি, এনসিপি’র মাধ্যমেই এ দেশের মানুষের মুক্তি মিলবে।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন