ওয়ানডে সিরিজের নিরুত্তাপ গ্যালারি হতাশা বাড়িয়েছে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়ানডেতে তেমন দর্শক সমাগম হয়নি। তবে এবার চার ছক্কার ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেটে সাগরিকায় দর্শকরা ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই মাঠেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনো বেশ দুর্বল দল টাইগাররা। আইসিসি’র র?্যাঙ্কিংয়েও দলটির অবস্থান একেবারে তলানিতে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে এই সংস্করণে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। প্রথম ওয়ানডে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিকরা এই সিরিজেও আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। তবে পরিসংখ্যানে সফরকারী নিউজিল্যান্ড যোজন যোজন এগিয়ে। মোট ২০ আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের ১৫ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র চারটিতে। নিজেদের মাটিতেও কিউইদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য খুব বেশি নয়।
তবে ঘরের মাঠের নতুন পেসারদের নিয়ে এবার দারুণ আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার গতকাল দলীয় প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। এই সংস্করণে নিজেদের দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘র্যাঙ্কিংয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি, ওপরে আসতে হলে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং সব বিভাগেই আমাদের ভালো করতে হবে।’ পরিবর্তন নয়, বরং এখন মাঠের খেলায় ধারাবাহিক উন্নতির দিকেই তাদের পুরো মনোযোগ নিবদ্ধ। টি-টোয়েন্টি দলের আপগ্রেড সংস্করণ চান বাশার। আসন্ন সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে বেশ কয়েকটি চমক রয়েছে। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস। তার কাঁধেই থাকছে ব্যাটিংয়ের মূল দায়িত্ব। অধিনায়ক লিটনকে নিয়ে বাশার বেশ আশাবাদী। তিনি বলেছেন, ‘লিটন একজন লিডার, ও সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়।’ ঘরোয়া লীগ ও সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দলে সুযোগ পেয়েছেন তরুণ আব্দুল গাফফার সাকলাইন এবং রিপন মণ্ডল।
এই তরুণ পেসারদের নিয়ে নির্বাচকরা বেশ আশাবাদী। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলের অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। বিশ্রামে আছেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানাও। অন্যদিকে সফরকারী দলটি বেশ শক্তিশালী। টম ল্যাথামের নেতৃত্বে কিউই শিবিরে আছেন উইল ইয়াং, ফক্সক্রফট কিংবা নিকোলসের মতো মারকুটে ব্যাটাররা। ওয়ানডে সিরিজের মূল খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই এই ফরম্যাটেও খেলবেন। তাদের পেস আক্রমণ ও আগ্রাসী ব্যাটিং বরাবরই প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর। নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে তারা অপ্রতিরোধ্য। তবে উপমহাদেশের স্পিন উইকেটে তারা কিছুটা চাপে থাকেন। সেই দুর্বলতা কাজে লাগানোর সুযোগ স্বাগতিকদের সামনে রয়েছে।
সামনের আসরগুলোতে সফল হতে শক্তিশালী পেস আক্রমণ প্রয়োজন। স্বাগতিকরা এখন মূলত সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি অত্যন্ত ব্যস্ত। তাই ফাস্ট বোলারদের ঘুরিয়ে খেলানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচক। এই রোটেশন নীতির মাধ্যমেই নতুনদের পরখ করে নেওয়া হচ্ছে। বাশার জানিয়েছেন, ‘যেহেতু এখন প্রচুর খেলা, তাই ফাস্ট বোলারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে না খেলালে মুশকিল।’ জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও সমৃদ্ধ করতে ম্যানেজমেন্ট অবিরাম কাজ করছে। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন মানসম্মত পেসার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের সার্ভিস পাওয়া সম্ভব। দলের মানসিকতায় ইতিবাচক বদল আনতে হবে। খেলার ধরনে আনতে হবে আগ্রাসী মনোভাব। তবে রাতারাতি সব বদলে ফেলা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। তার দর্শন হলো, খোলস পাল্টানোর চেয়ে প্রতিটি জায়গায় ধাপে ধাপে উন্নতি করা বেশি কার্যকর। তিনি বলেছেন, ‘আমি পরিবর্তনের চেয়ে উন্নতির ওপর বেশি জোর দিচ্ছি।’
দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে অতীতে বেশ কিছু স্মরণীয় সিরিজ জয়ের রেকর্ড রয়েছে স্বাগতিকদের। বিশেষ করে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয়গুলো অনুপ্রেরণা জোগায়। বিদেশের মাটিতেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ সিরিজ জয় রয়েছে তাদের। এ পর্যন্ত দুই শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন টাইগাররা। এর মধ্যে জয়ের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তবে এসব পরিসংখ্যান এখন শুধুই অতীত। সাগরিকায় নতুন মিশন শুরু করার আগে বাশার স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, ‘আমরা যাই করি না কেন, আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার জেতা।’ সমর্থকরা সবসময় জয় দেখতে ভালোবাসেন। তাই নিজেদের সেরা খেলাটা মাঠে উপহার দিতে হবে। অধিনায়কের ওপর অগাধ আস্থা টিম ম্যানেজমেন্টের. লিটনের চওড়া ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে থাকবে গোটা দেশ। দলের সহঅধিনায়ক সাইফ হাসান এবং পারভেজ হোসেন ইমনের মতো তরুণরাও প্রস্তুত নিজেদের প্রমাণ করতে। সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীরা। গ্যালারি ভর্তি দর্শকের গর্জনে খেলোয়াড়রা বাড়তি অনুপ্রেরণা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
