আম্পায়ারের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গেই হকির টার্ফে উল্লাসে মেতে উঠলো বাংলাদেশের মেয়েরা। এ উল্লাস নতুন ইতিহাসের। আন্তর্জাতিক হকিতে প্রথম জয় দেখলো বাংলাদেশ নারী হকি দল। গতকাল এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম তোলে অর্পিতা পালের দল। এর আগে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচে ৫-৫ গোলে ড্র করে হকির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করে বাংলাদেশের মেয়েরা। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে মোট ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উজবেকিস্তান। আগামীকাল হংকং নারী দলের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
আর এ ম্যাচে জয় বা ড্র করতে পারলে সেমিফাইনালের সঙ্গে এশিয়ান গেমসে খেলারও টিকিট পাবেন অর্পিতা-আইরিনরা। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় জিবিকে হকি মাঠে শুরু থেকেই দাপুটে খেলা উপহার দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন শারিকা রিমন। তবে সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি উজবেকিস্তান। ঠিক এক মিনিট পরেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলটি শোধ করেন খুজায়েভা মাদিনাবোনু। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথম কোয়ার্টার। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও দাপট ধরে রাখে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণ করে উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগের পরীক্ষা নেয়।
২৪ মিনিটে উজবেকিস্তানের রক্ষণদূর্গ ভেদ করে ফিল্ড গোল করেন কনা আক্তার। এটি টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় গোল। ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষ করে লাল-সবুজ মেয়েরা। তৃতীয় কোয়ার্টারেও দাপট ধরে রাখে বাংলাদেশ। ৪০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার পায়। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি আইরিন আক্তার। এটি টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় গোল। শেষ কোয়ার্টারের শুরুতে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ম্যাচে ফেরার আভাস দেয় উজবেকিস্তান। তবে বাকি সময় লিড ধরে রাখে বাংলাদেশ। এ জয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গেলো অর্পিতা পালের দল। ম্যাচসেরা হন আইরিন আক্তার রিয়া। ম্যাচশেষে আইরিন নিজের অনূভূতি জানিয়ে বলেন, ‘আমি অনেক খুশি সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হতে পেরে। দলের সবাই আমাকে সাপোর্ট করেছে।’ আট দলের এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্ব থেকে শীর্ষ চার দল চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের মূলপর্বে খেলবে।
