নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় ডান হাতে চোট পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি লাইনে থাকা বিজ্ঞাপন বোর্ডের পেরেকে লেগে তার হাত ছিলে যায়। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যে শঙ্কার মেঘ জমেছিল, তা এখন পুরোপুরি কেটে গেছে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে তিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন। আগামী টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্কোয়াডে না থাকায় তাকে নিয়ে কোনো বাড়তি ঝুঁকি নিচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের অন্যতম সেরা এই পেসারের চোট নিয়ে গতকাল ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন ম্যানেজার নাফিস ইকবাল। এই ইনজুরি প্রসঙ্গে দৈনিক মানবজমিনকে নাফিস বলেন, ‘নাহিদ রানা কালকে এখানে ড্রেসিং করিয়ে আজকে তো সে চলে গেছে। ও তো টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে নাই। কোনো সেলাই করা হয় নাই। লাগবে না, সব ঠিক আছে আলহামদুলিল্লাহ।’
অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী রানার চোট নিয়ে ইতিবাচক তথ্য দিয়েছেন। আঘাত পাওয়ার পরপরই দ্রুত পেসারের ডান হাতে ব্যান্ডেজ পরানো হয়েছিল। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, ক্ষতস্থানটি মোটেও গুরুতর নয়। তরুণ এই ফাস্ট বোলারের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে দেবাশীষ বলেন, ‘ওর হাতে একটু ছিলে গেছে, জাস্ট ড্রেসিং করা হয়েছে। আমি যা শুনছি যে সেলাই লাগেনি। একদিন বা দুইদিন ড্রেসিং থাকবে আরকি। না, বড় কিছু না।’ চিকিৎসকের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, রানাকে নিয়ে বিসিবির চিন্তার কোনো শক্ত কারণ নেই। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তিনি পুনরায় পুরো রানআপে স্বাচ্ছন্দ্যে বোলিং শুরু করতে সক্ষম হবেন।
সদ্য সমাপ্ত নিউজিল্যান্ড সিরিজে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন নাহিদ রানা। তিন ম্যাচের এই সিরিজে তিনি মোট আট উইকেট শিকার করেছেন। দ্বিতীয় ম্যাচে একাই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে কোণঠাসা করে ফেলেন। পুরো সিরিজ জুড়েই তার গতির সামনে চরম অস্বস্তিতে ভুগেছেন সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি অবলীলায় সিরিজ সেরার পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন।
তবে আগামী টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। এমনকি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল) অংশ নেয়ার জন্য তাকে আপাতত অনাপত্তিপত্র বা ছাড়পত্র দেয়নি ক্রিকেট বোর্ড। এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নাহিদ এখন সরাসরি পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। লাল বলের ক্রিকেটে তাকে পুরোপুরি ফিট এবং সতেজ পেতেই এমন দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তরুণ এই পেসারকে নিয়ে তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ।
