ইরানের বদলি হিসেবে খেলার ‘অপমানজনক’ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইতালির

ইরানের বদলি হিসেবে খেলার ‘অপমানজনক’ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইতালির

ফন্ট সাইজ:

আগামী ১১ই জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। তবে উত্তর আমেরিকায় কিক-অফের আগেই মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে টেবিলের রাজনীতি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যখন ধোঁয়াশা, তখন সামনে আসে এক নাটকীয় প্রস্তাব। যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়া ইতালিকে ইরানের জায়গায় বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত। তবে এমন প্রস্তাবকে স্রেফ ‘লজ্জাজনক’ ও ‘অপমানজনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি সমপ্রতি ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে এই প্রস্তাবটি পেশ করেন। তার যুক্তি, চারবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতালির ঐতিহ্য আছে এবং আমেরিকার মাটিতে সমর্থকদের জন্য ইতালি দলকে দেখা হবে স্বপ্নের মতো। ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান যদি শেষ পর্যন্ত না আসে, তবে ইতালি সেই জায়গা নিতে পারে। তবে এমন প্রস্তাবকে ধিক্কার জানিয়েছেন ইতালির মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যোগ্যতা অর্জন করতে হয় খেলার মাঠে। এভাবে বিশ্বকাপে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রী জিয়ানকার্লো জিওরজেত্তি এই প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট লুসিয়ানো বুওনফিগ্লিও একে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে হলে তার যোগ্যতা অর্জন করেই যেতে হয়।’ তাদের মতে, ফুটবলীয় গৌরবের সঙ্গে এমন রাজনৈতিক সমঝোতা মানানসই নয়।

এদিকে, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চান যে, ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে কি না। শুরুতে ট্রাম্প, ‘আমি এটি নিয়ে খুব একটা ভাবিনি।’ পরে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটি বেশ মজার। এটি নিয়ে আমাকে একটু ভাবতে দিন।’ এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকে প্রশ্নটি ঠেলে দেন ট্রাম্প। রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কিছু বলা হয়নি, যে তারা আসতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমস্যা ইরানকে নিয়ে, তাদের খেলোয়াড়দের নয়। সমস্যা হতে পারে তাদের সঙ্গে আসা অন্য কিছু লোককে নিয়ে।’ রুবিওর মতে, ইরান ফুটবল দল সাংবাদিক বা কোচের পরিচয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুগত কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে আসতে পারে। বিশ্বকাপে না খেলার গুঞ্জন উঠলেও, ইরান স্পষ্ট করেছে তারা খেলার জন্য শতভাগ প্রস্তুত।

দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, দলের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে তারা সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। অন্যদিকে, ফিফাও বিশেষ দূতের সেই প্রস্তাব নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। বিধিমালার ‘ধারা ৬’ অনুযায়ী বদলি দল বেছে নেয়ার স্বাধীন ক্ষমতা ফিফার আছে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) চাইবে এ জায়গাটি যেন এশিয়ার কোনো দেশই পায়। সেক্ষেত্রে গত নভেম্বরে ইরাকের কাছে প্লে-অফে হেরে যাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত হতে পারে সবচেয়ে যৌক্তিক পছন্দ। যুদ্ধের কারণে ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেয়ার দাবি জানায়, যা ফিফা প্রত্যাখ্যান করে দেয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে আগামী ১৫ই জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হওয়ার কথা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন