টানা তৃতীয় সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। এই জয়ে দেশের সফলতম অধিনায়কদের এলিট তালিকায় ঢুকেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এর আগে হাবিবুল বাশার সুমন, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবাল টানা তিন সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। মাশরাফি সর্বোচ্চ টানা ছয় এবং তামিম টানা পাঁচ সিরিজ জিতেছেন। এমন এলিট ক্লাবে প্রবেশের পর সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের কণ্ঠেও ঝরেছে স্বস্তি। প্রথম ম্যাচ হারের পর খাদের কিনারা থেকে ফেরা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। তিনি পুরো পরিস্থিতিকে অলিখিত নকআউট হিসেবেই বিবেচনা করেছিলেন।
অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ হারার পর বিষয়টিকে আমি নকআউট হিসেবে নিয়েছিলাম, হারলেই বাদ এমন মানসিকতা নিয়ে খেলেছি।’ তীব্র চাপের মুখে এমন মানসিকতাই পুরো দলকে একজোট করেছে। বিশেষ করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের নিখুঁত ব্যাটিং জয়ে বিশাল ভূমিকা রেখেছে। চরম বিপর্যয়ের মুখে তাদের দায়িত্বশীল জুটি লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মিরাজ তাই জোর দিয়ে বলেন, ‘ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বাংলাদেশ জিতেছে এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।’ বোলিং আক্রমণ নিয়ে বরাবরই আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের কাণ্ডারি মিরাজ। পেস বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনি মুগ্ধ। দীর্ঘ সাত বছর পর পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। দলের জয়ে তার অবদান স্বীকার করে মিরাজ বলেন, ‘মোস্তাফিজ গ্রেট বোলার, সে আমাদের অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে।’ অন্যদিকে গতি তারকা নাহিদ রানাকেও দেশের ক্রিকেটের বড় সম্পদ মনে করেন তিনি। তাকে সাবধানে যত্নে রাখার তাগিদ দিয়ে মিরাজ বলেন, ‘সে যেভাবে নিজেকে মেইনটেইন করছে, তা দলের জন্য বড় সুবিধা।’ ঘরোয়া ‘লীগ’ খেলে ফেরা শরিফুল ইসলামও চমৎকার বোলিং করেছেন। প্রায় দেড় বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নেমেও নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। স্লোয়ার ও কাটারের দুর্দান্ত ব্যবহার দলের জন্য ইতিবাচক ফল এনেছে। মিরাজ বলেন, ‘আমাদের পেস ইউনিট গত তিন চার বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে।’ বিদেশের মাটিতেও পেসারদের নৈপুণ্যেই নিয়মিত জয় পাচ্ছে দল। পেসাররা ফর্মে থাকলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সহজেই নিজেদের হাতে চলে আসে। এটি বাংলাদেশ দলের জন্য এক বিশাল ইতিবাচক দিক। দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে এখন নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। তাওহীদ হৃদয়কে চারের বদলে ছয়ে খেলানো প্রসঙ্গে মিরাজ জানান, এটি মেকশিফট ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে খেলতে খেলোয়াড়রা প্রস্তুত থাকে।’ একাদশে জায়গা ধরে রাখতে সৌম্য সরকারকেও সুযোগ কাজে লাগানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন অধিনায়ক। শেষ দশ ওভারের ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন মিরাজ। পুরনো বলে রান তোলা কঠিন হলেও উইকেট ধরে রাখাটাই আসল কাজ। সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে স্পিনার রিশাদ হোসেনকে বসিয়ে তানভীরকে সুযোগ দেয়া হয়। সবাইকে বাজিয়ে দেখার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মিরাজ পুরো সন্তুষ্ট হতে পারেননি। স্পিন কোচের প্রশংসায় তিনি পঞ্চমুখ হলেও ব্যাটিং নিয়ে তার কণ্ঠে আক্ষেপ ঝরেছে। বাংলাদেশ দলের মূল লক্ষ্য এখন আসন্ন বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করা। অধিনায়ক বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন, ‘বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করাটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভালো ক্রিকেট খেলাটাও জরুরি।’ সঠিক প্রক্রিয়া মেনে এগোলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ নয়ে থাকা মোটেও কঠিন হবে না বলে দৃঢ় বিশ্বাস মিরাজের।
