অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক। কিন্তু কয়েক মাস হয়ে গেলেও পদায়ন হয়নি তাদের। তড়িঘড়ি করে নেয়া এই পরীক্ষা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিভিন্ন জেলায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ, অসংখ্য প্রার্থী ডিভাইসসহ আটকের পর নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। চাকরিপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ভেরিফিকেশন করতে যাচ্ছে সরকার। এর জন্য গঠন করা হবে কমিটি।
এই নিয়োগ নিয়ে সাবধানী পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পুরো পরীক্ষা রিভিউ করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এটি রিভিউয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গত ৫ই নভেম্বর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপ এবং ১২ই নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৯ই জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২১শে জানুয়ারি রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ হয়। গত ২৮শে জানুয়ারি থেকে ৩রা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এই পরীক্ষা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। শেষ মুহূর্তে হওয়া পরীক্ষা নিয়ে নানা মহলে ছিল প্রশ্ন। প্রশ্ন ফাঁসের পাশাপাশি দেশব্যাপী পরীক্ষায় ব্যবহৃত বিপুল সংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার হন বেশ কয়েকজন। এরপরও নির্বাচনের আগের মুহূর্তে বিভিন্ন মহলের আপত্তি উপেক্ষা করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ওভারনাইট পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া রিভিউ করা হতে পারে। আমরা একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে ভাবছি। এ কমিটিই রিভিউয়ের বিষয়টি দেখবে।
