অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

স্বৈরাচারের সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সংসদ অধিবেশনে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান। সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় প্রশ্ন হাম এই মুহূর্তে বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি ক্রুশিয়াল কোশ্চেন। এই মুহূর্তেও চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট সেটিসহ অধিকাংশ হাম শনাক্তকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যে কারণে এই হাম শনাক্ত করতে সকল ইনস্টিটিউটকে এবং চিকিৎসা কেন্দ্রকে ঢাকায় পাবলিক হেলথ কেন্দ্র ন্যাশনাল পলিউট অ্যান্ড রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে টিকা যথার্থ হওয়ার পরেও চিহ্নিত করতে রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই ব্যবস্থা উত্তরণে খুব দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য আপনি যে প্রশ্নটি বলেছেন, যে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, আসলে এটি একটি খুব দুঃখজনক ঘটনা। এই সংসদে আজকে আমরা যারা উপস্থিত আছি আমরা সকল রাজনৈতিক দলগুলো এবং এই সংসদের বাইরেও রাজনৈতিক দল আছে যারা সকলে মিলে একটি স্বৈরাচারকে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। দুঃখজনক ব্যাপার হলো- সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আরও দুঃখজনক ব্যাপার হলো আমরা যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম। দেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য দুঃখজনকভাবে সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা গত কয়েক বছর ধরে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি এবং স্বাভাবিকভাবেই যখন এই সমস্যাটি দেখা দেয় খুব দ্রুততার সঙ্গে এখানে আমাদের বলতেই হবে ইউনিসেফ বাংলাদেশকে অনেক হেল্প করেছে।

এই ব্যাপারে দ্রুত তারা হামের যে ভ্যাক্সিনেশন সেটি খুব দ্রুততার সঙ্গে পাঠিয়েছে। যার ফলে আমরা ওষুধগুলো পেয়েছি এবং প্রায় দুই কোটি শিশুকে এই হামের ভ্যাকসিন দেবো। যে টেস্ট করার কিটটি এটির স্বল্পতা রয়েছে সঠিক। এটির ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। খুব সম্ভবত একটি কিট দিয়ে তিনটি শিশুকে টেস্ট করা সম্ভব হয়, তিনটি টেস্ট করা যায়। কিছু কিট এই মুহূর্তে খুব সম্ভবত ঢাকার কাস্টমসে আছে, এয়ারপোর্টে আছে, সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড়ানোর ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ করছি। দুঃখজনক হলেও সত্য এর মধ্যে অনেকগুলো শিশুর প্রাণ ঝরে গিয়েছে; আমাদের মাঝ থেকে চলে গিয়েছে। বাট সামনে আমরা চেষ্টা করছি যাতে আমরা এই পুরো সিচুয়েশনটাকে ম্যানেজ করতে পারি। সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।

পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে: পাচারকৃত অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বুধবার টেবিলে প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থ প্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচারকৃত এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশসমূহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের (USA, UK, Canada, Swityerland, Australia, Thailand, UAE, Singapore, Malaysia and Hongkong-(China) মধ্যে ৩টি দেশ (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। উক্ত টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১ (এগার)টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেসসমূহের অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। ঔওঞ গঠনের পর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলোর অগ্রগতি নিম্নরূপ: সেগুলো হলো- বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দেশে ২৫শে মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মোট ৫৭ হাজার ১ শত ৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
অপরদিকে, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২ শ’ ৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪ শত ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

কৃষির উন্নয়নে ৭টি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ৭টি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্যবিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষিখাত নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির এই মূল দর্শনে কার্যক্রম শুরু হয়েছে: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির এই মূল দর্শনকে বিবেচনায় নিয়ে জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারে গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে উন্নয়ন জোরদার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির এই মূল দর্শনকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

উর্দু ভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের বিবেচনা করা যেতে পারে: পল্লবী থানার আওতাভুক্ত বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দু ভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। বুধবার টেবিলে প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রাধীন পল্লবী থানায় বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দু ভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য অদ্যাবধি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। তবে বিস্তারিত সমীক্ষা করে পল্লবী থানার আওতাভুক্ত বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দু ভাষী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে
দেশের উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, উন্নীতকরণ, নব রূপায়ণ এবং মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পর্কিত সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। অধিবেশনে সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। বুধবার টেবিলে প্রশ্ন উপস্থাপিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ) নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার বিষয়কে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সিরু

১ মাস আগে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনি বলেছেন "হামের টীকা দেওয়া বন্ধ করে অসংখ্য শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে যারা তারা ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে "।
আমরা তাদের বিচার চাই।
বিচার আপনাকে করতেই হবে।

মন্তব্য করুন