হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মঙ্গলবারও প্রায় পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র তিনটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে বলে শিপিং তথ্য থেকে জানা গেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে তেহরান ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেও প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সাধারণত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

শিপ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ান স্পির নামের একটি পণ্যবাহী ট্যাংকার ইরাকের একটি বন্দর থেকে এসে মঙ্গলবার প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে এর কোনো নির্দিষ্ট পতাকা বা মালিকানা জানা যায়নি। লিয়ান স্টার নামের একটি কার্গো জাহাজও ইরানের একটি বন্দর থেকে যাত্রা করে প্রণালি পার হয়েছে। এটিরও মালিকানা জানা যায়নি।

এছাড়া, মেডা নামের একটি এলপিজি ট্যাংকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দরে অবস্থান করেছিল। সোমবার তা দ্বিতীয় চেষ্টায় উপসাগর ছাড়তে সক্ষম হয়। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিনম্যাক্স এই তথ্য জানিয়েছে। এই সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১৪০টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় অত্যন্ত কম। গত শুক্রবার ইরান সাময়িকভাবে প্রণালি খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলে এক ডজনের বেশি ট্যাংকার পার হয়। কিন্তু শনিবার আবার প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে কিছু জাহাজের দিকে গুলি ছোড়ে তেহরান। শিপব্রোকার বিআরএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজ কাগজে-কলমে সব শর্ত পূরণ করলেও, বাস্তবে জাহাজগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং প্রণালি পার হতে ব্যর্থ হতে পারে।

বর্তমানে উপসাগরের ভেতরে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। তারা বের হতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, নাবিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা যায় না। তিনি বলেন, গত শুক্রবার কিছু জাহাজ চলাচল শুরু করলেও হঠাৎ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং কিছু জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সৌভাগ্যবশত, কোনো হতাহত বা বড় ক্ষতি হয়নি।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি ইরানি ট্যাংকার মার্কিন নৌবাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করে সোমবার আরব সাগর থেকে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। বিআরএস-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ৬১টি সুপারট্যাংকারউপসাগরে আটকা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে তেল বোঝাই রয়েছে। বিআরএস বলেছে, বিশ্ব যখন তেলের জন্য মরিয়া, তখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে অতিরিক্ত ২০ লাখ ব্যারেল তেল বের হতে পারলে তা সাদরে গ্রহণ করা হতো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন