পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র হয়ে নির্বাচনী প্রচারে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঝাড়গ্রামে গাড়ি থামিয়ে এক ঝালমুড়ির দোকানে গিয়ে ১০ রুপির ঝালমুড়ি কিনে খেয়ে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। ঘটনাটি রোববারের। ঝালমুড়ি বানানোর সময় দোকানদার জিজ্ঞাসা করেন, প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়িতে পিয়াজ খাবেন কিনা। উত্তরে মজার ছলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সির্ফ দিমাগ নেহি খাতে হ্যায় (শুধু মাখা খাই না)।’ বাংলায় ঝালমুড়ির জনপ্রিয়তা সব মৌসুমে সমান। মুড়ি, তেল, লঙ্কা, চানাচুর সহযোগে বাংলার নানান প্রান্তে নানান রেসিপিতে বানানো হয়ে থাকে এই ঝালমুড়ি। বহু আড্ডা হালকা মেজাজ হোক বা মেজাজ গম্ভীর হোক, মুঠোভর্তি ঝালমুড়ি বাঙালিকে আলাদা তৃপ্তি দেয়। সেই ঝালমুড়ির স্বাদ এবার চেখে দেখলেন নরেন্দ্র মোদি। মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার ভাইরাল ভিডিও অবশ্য ইতিমধ্যেই ১০ কোটির বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন।
তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে কটাক্ষ ও পাল্টা কটাক্ষের জোয়ার দেখা গিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে নতুন মসলা যোগ করেছে মোদির ঝালমুড়ি খাওয়া। বিজেপি অবশ্য এর মধ্যে প্রচারের নতুন মাত্রা দেখতে পেয়েছে। বিরোধীরা একে সাজানো নাটক বলে মোদিকে কটাক্ষ করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী জনসভায় ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাইরাল হওয়া ঝালমুড়ি বিরতিকে একটি ‘সাজানো নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এসবই নাটক। প্রচার অভিযানের মাঝে প্রধানমন্ত্রী যখন হঠাৎ করে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি ছাড়াই থামলেন, তখন দোকানের ভেতরে ক্যামেরা লাগানো হলো কী করে? পুরো ঘটনাটিই সাজানো ছিল। এসপিজি (স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ, যারা প্রধানমন্ত্রীকে সামনাসামনি নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্বে থাকে) তার জন্য ঝালমুড়ি তৈরি করে রেখেছিল- তার (মোদি) পকেটে ১০ টাকার নোট দেখা গেছে। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
মমতা ব্যানার্জী পুরো ঘটনাটির স্বতঃস্ফূর্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন: সেখানে আগে থেকেই ক্যামেরা বসানো ছিল। এসপিজি পুরো বিষয়টির আয়োজন করেছিল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার মধ্যে ষড়যন্ত্র দেখতে পেয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীকে ‘আদিবাসী-বিরোধী মানসিকতার’ জন্য অভিযুক্ত করেছে। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি বিরতির কারণে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ও আদিবাসী নেতা হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারটি ঝাড়গ্রামে অবতরণ করতে পারেনি। সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য গোটা এলাকা নো ফ্লাইয়িং জোন ঘোষণা করে রাখা হয়েছিল। সোরেন এবং তার স্ত্রী কল্পনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং অবশেষে তারা তাদের প্রচার কর্মসূচি বাতিল করে রাঁচি ফিরে যেতে বাধ্য হন। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় মমতার সঙ্গে তার ঝালমুড়ি খাওয়ার মুহূর্তটির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অবশেষে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ‘ঝালমুড়ি’র গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন দেখে খুব খুশি হলাম। মুখ্যমন্ত্রী সত্যিই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে আমাকে ঝালমুড়ি খাইয়েছিলেন।
সমাজমাধ্যমেও চলছে এই ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
মোদির ঝালমুড়ি খাওয়া পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে নতুন মসলা
পরিতোষ পাল, কলকাতা
২২ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
