সিলেটে নতুন ইজারায় গেল কাজির বাজার

সিলেটে নতুন ইজারায় গেল কাজির বাজার

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের কাজির বাজার পশুর হাট গেল নতুন ইজারাদারদের হাতে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা কর্তৃপক্ষের কাছে হাটের কর্তৃত্ব সমঝে দেয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ইজারা প্রদানের মাধ্যমে হাট পেয়েছেন বিএনপি নেতা মাহবুব কাদির শাহী ও তার গ্রুপ। তবে এই হাট নিয়ে সিলেটে আলোচনা রয়েছে। কাজির বাজার পশুর হাট বলতেই ছিল নগরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আফসর উদ্দিনের নাম। তার বাড়িও ওখানে। নানা মখন মিয়ার আমল থেকেই তিনি এ হাটের ‘কর্তৃত্ব’ ধরে রেখেছিলেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- নগরের ভেতরে যেকোনো হাটের মালিক সিলেট সিটি করপোরেশন। এ জন্য নিয়ম মেনে সিটি করপোরেশন আইনি লড়াইয়ের পর হাটের মালিকানা পাওয়ার পর নতুন করে ইজারা দিয়েছে। আর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এবার ইজারা পেয়েছেন বিএনপি নেতা মাহবুব কাদির শাহী। এ জন্য পূর্বে যারা হাটের ইজারাদার ছিলেন তারা সরে গেছেন। নতুন ইজারাদাররা হাটের দায়িত্ব বুঝে পেয়েছেন। এটা হচ্ছে আইন। এখানে জবরদখলের কোনো প্রশ্ন নয়। এদিকে হাটের দায়িত্ব পেয়ে ইজারার অংশীদার নগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব হাটে দাঁড়িয়েই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- গত ৭ই এপ্রিল সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই হাটের টেন্ডার আহ্বান করেছিল। এই টেন্ডারে অংশ নিয়ে নতুন করে ইজারা পাওয়া গিয়েছে। টেন্ডারে বাজারের যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল সেই তফসিলের ভূমি তারা বুঝে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। নগর বিএনপি নেতা হুমায়ূন আহমদ মাসুক জানিয়েছেন- সিলেট সিটি করপোরেশন হাট বুঝিয়ে দেয়ার পর তারা বাঁশ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করছেন। এতে পূর্বে যারা ইজারায় ছিলেন তাদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। হাটের পূর্বের ইজারাদার ব্যবসায়ী আফসার উদ্দিনের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন- হাটের মালিক যেহেতু সিটি করপোরেশন তারা ইজারা দিয়েছেন। নতুন করে ইজারায় গেছে। এখন থেকে নতুন ইজারাদাররা হাটের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। এদিকে হাটের ইজারা নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন- দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সিলেট কাজির বাজারের মালিকানা রাষ্ট্রের কাছে এসেছে। সরকারের পক্ষে সিটি করপোরেশন এক বছরের জন্য বাজারটি ইজারা দিয়েছে। ইজারা থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের একটি অংশ খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওয়াক্‌ফ এস্টেটকে প্রদান করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ নগরবাসীর কল্যাণে ব্যয় করা হবে। কাজির বাজারের ইতিহাস তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক জানান- অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া এই বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তার পারিবারিক উপাধি ‘কাজি’ থেকে বাজারটির নামকরণ করা হয়। জনহিতকর কাজে তিনি তার সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ এস্টেটে দান করেছিলেন। প্রশাসক জানান- হাটবাজার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো বাজার ব্যক্তিমালিকানাধীন হতে পারে না; এর মালিক সরকার। কাজির বাজার নিয়ে নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলা শেষে চূড়ান্তভাবে সরকারের পক্ষে রায় আসে। বিভাগীয় কমিশনার সরাসরি বাজার পরিচালনা করতে না পারায় সিটি করপোরেশন এক বছরের জন্য এই হাট ইজারা দিয়েছে। সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয়ই নগর উন্নয়নের প্রধান উৎস। কাজির বাজার থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ ওয়াক্‌ফ এস্টেটকে প্রদান করা হবে এবং বাকি অর্থ নগরবাসীর কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। বাজার পরিচালনায় সিটি করপোরেশন ও ইজারাদারকে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- কাজির বাজার হচ্ছে নগরের প্রধান পশুর হাট। এটি ঐতিহ্যবাহী। ২৪ ঘণ্টায়ই এখানে পশু মিলে। যখন প্রয়োজন ক্রেতারা এসে পশু ক্রয় করতে পারতেন। নতুন ইজারায় যাওয়ার পূর্বে থেকে অনেক ব্যবসায়ী তাদের পশু সরিয়ে নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার থেকে তারা পুনরায় অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করলে পশু আসতে শুরু করেছে। ইজারাদাররা জানিয়েছেন- সিলেটের বাইরের অনেক ব্যাপারি তাদের পশু নিয়ে নগরের আশপাশের হাটে রয়েছেন। ইতিমধ্যে কাজির বাজার পশুর হাটে চলে আসতে তাদের বলা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন