ট্রাম্পকে খুশি রাখতে পাকিস্তানিরা ভালো কাজ করেছে: মেহেদি হাসান

ট্রাম্পকে খুশি রাখতে পাকিস্তানিরা ভালো কাজ করেছে: মেহেদি হাসান

ফন্ট সাইজ:

ট্রাম্পকে খুশি রাখতে পাকিস্তানিরা ভালো কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপরিচিত সাংবাদিক মেহেদি হাসান। এনডিটিভির বিষ্ণু সোম’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, মেহেদি হাসান জিটিও-এর প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ইরান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে যখন চারদিকে দ্বিধা, তখন এ মন্তব্য করেন মেহেদি।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানে এই বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। আর হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে বৈশ্বিক বাজারও উদ্বিগ্ন। মেহেদি হাসান বলেন, পাকিস্তানিরা ট্রাম্পের খুব কাছাকাছি চলে গেছে এবং তাকে খুশি রাখতে চেষ্টা করেছে। এটা একটা স্মার্ট পদক্ষেপ। তিনি উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে ট্রাম্পকে শেহবাজ আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়ার কথা বলেন।

মেহেদি হাসানের মতে, এতে বোঝা যায় ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ধারাবাহিকতার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তিনি বলেন, এটা অভিন্ন স্বার্থ বা মূল্যবোধের ব্যাপার নয়- কে তাকে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করতে পারে, সেটাই বড় বিষয়।

এই সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির। তিনি সম্প্রতি ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হয়েছেন। মেহেদি হাসান উল্লেখ করেন, মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে একান্ত বৈঠক ছিল নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ইতিহাসে সম্ভবত প্রথমবারের মতো কোনো পাকিস্তানি জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন। যদি এই আলোচনা সফল হয়, তাহলে ট্রাম্প ও মুনিরের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে।

যদিও আলোচনার স্থান খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মনে করেন হাসান, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংঘাত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, কয়েকজন মানুষকে একটি হোটেল বা কনফারেন্স রুমে বসিয়ে এক সপ্তাহান্তেই সমস্যার সমাধান করা যাবে- এই ধারণা হাস্যকর।

তিনি জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশনের উদাহরণ দেন, যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় সম্পাদিত হয়েছিল। এই চুক্তি করতে বহু বছর সময় লেগেছিল এবং এতে একাধিক বিশ্বশক্তি যুক্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফের মতো শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দীর্ঘ আলোচনার ফলেই সেই চুক্তি সম্ভব হয়েছিল।
মেহেদি হাসান প্রশ্ন তোলেন, যদি এই আলোচনায় মাস বা বছর লেগে যায়, তাহলে বিশ্বের বাকি অংশের কী হবে?

তিনি মনে করেন, বর্তমান নেতৃত্ব আগের তুলনায় কম আপসপ্রবণ, ফলে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম। এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা এখনো ঠিক করেনি পরবর্তী দফার আলোচনায় অংশ নেবে কি না। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে ওয়াশিংটন কূটনীতিতে আন্তরিক নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইরান পাল্টা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রই অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ দিয়ে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি ঝুলে থাকা অবস্থায় কূটনৈতিক সমাধান অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন