এসএসসিতে চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে

ফন্ট সাইজ:

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ২১৮ বিদ্যালয় থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন, ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। গতবারের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ১০ হাজার ৫ জন। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩২৭।
চলতি বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৫ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্র ও ১৯ হাজার ৫৪৬ জন ছাত্রী। মানবিকে অংশগ্রহণকারী ১৩ হাজার ৭৩১ জন ছাত্র ও ৩০ হাজার ২২৭ জন ছাত্রী। ব্যবসায় বিভাগ থেকে অংশগ্রহণকারী ২৭ হাজার ১৬০ জন ছাত্র ও ২৪ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী। মোট অংশগ্রহণকারী ছাত্রের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩২৫ জন ও ছাত্রীর সংখ্যা ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। এ ছাড়া পরীক্ষায় এবার অংশগ্রহণ করছে ১ হাজার ২১৮ বিদ্যালয়।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে চট্টগ্রাম জেলায় (মহানগরসহ) অংশগ্রহণকারী ৪০ হাজার ১৮৪ জন ছাত্র ও ৫২ হাজার ১১২ জন ছাত্রী। কক্সবাজার জেলায় ৭ হাজার ৭৭৬ জন ছাত্র ও ছাত্রী ১১ হাজার ১৩৮ জন। রাঙ্গামাটিতে ৩ হাজার ৩৩৭ জন ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা ৪ হাজার ৭৯ জন। খাগড়াছড়িতে ছাত্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৩৮ জন ও ছাত্রীর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩১ জন এবং বান্দরবানে ছাত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৫৯০ জন ও ছাত্রীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৮৩ জন।
শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষা সুষ্ঠু, কেন্দ্র নকলমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের গুজব প্রতিরোধ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গুজব থেকে পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে সব কোচিং সেন্টার পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এবার ৭৬টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টি সাধারণ ভিজিল্যান্স এবং ১০টি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলেও বোর্ডের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
চট্টগ্রাম নগরের সকল পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। পরীক্ষা চলাকালীন সময় জুড়ে এ আদেশ কার্যকর থাকবে। নকল প্রতিরোধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯, ৩০ ও ৩৩ ধারার ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে শেষ হওয়ার পরবর্তী এক ঘণ্টা পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্ধারিত এলাকায় এই আদেশ কার্যকর থাকবে। এই আদেশের আওতায় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য, লাঠিসোটা বহন, যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল, উচ্চস্বরে চিৎকার বা শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্রের ব্যবহার, অননুমোদিত ও বহিরাগত ব্যক্তিদের কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিএমপি জানিয়েছে, এই নির্দেশ প্রতিটি পরীক্ষার দিন কার্যকর থাকবে এবং কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে ২৯ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারছে না। রেজিস্ট্রেশন করলেও, পরীক্ষার আগেই ঝরে গেছে তারা। এই তালিকায় পাহাড়ি প্রত্যন্ত এলাকার পরীক্ষার্থী বেশি। নবম শ্রেণিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮০ জন। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফরম ফিলাপ করেনি ২৯ হাজার ৫৪২ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন করতে আমরা ইতিমধ্যে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এবার ২১৮টি কেন্দ্রে ১ হাজার ২১৮টি স্কুলে ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিবে। পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহী বরাবরে চিঠি দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন