শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর দাবিতে সংসদে সরব নাসের রহমান

শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর দাবিতে সংসদে সরব নাসের রহমান

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর দাবিতে জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম রিতা জানিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি চলছে,সেটি শেষ হলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর দাবিতে জনগুরুত্বপূর্ণ পূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেন এম নাসের রহমান। নোটিশে তিনি বলেন ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালে তৎকালীন সরকার দেশের দুইটি জেলা কক্সবাজার এবং মৌলভীবাজার জেলাকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করে এবং দুই জেলায় পর্যটন সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার স্ট্যাটাস ঘোষণা করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নতুন রেল লাইন,আধুনিক রেললাইন,উচ্চ মানের মহাসড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে এমনকি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও গঠন করে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় অপর পর্যটন অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজার জেলার জন্য কিছুই করেনি। অথচ প্রত্যেক সপ্তাহান্তে দুইদিন অন্যান্য লম্বা ছুটির সময় হাজার হাজার পর্যটক মৌলভীবাজারের চাবাগান, লাউয়াছড়া পার্ক,মাধবপুর লেইক,মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত,হাকালুকি হাওর সমূহ ভ্রমনে আসেন।
মৌলভীবাজারে আসার জন্য ৫টি ট্রেন আছে। কিন্তু শ্রীমঙ্গলের জন্য নির্ধারিত সীট ট্রেন প্রতি মাত্র ১৫ জন। এই সীট বিক্রি ৫ সেকেন্ডের মধ্যেই ১৫টা সীট চলে যায়। ট্রেনের টিকিট পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। তাই একমাত্র সড়কপথ ছাড়া মৌলভীবাজারে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরে ৮০০ একর জমির উপর বৃটিশ আমলে তৈরি করা এয়ারপোর্ট আছে যা এখন বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সেখানে বিমান বাহিনীর কিছু ট্রেনিং করা হয়। পাকিস্তান আমলে এটি বেসামরিক বিমান চলাচলে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিমানের অপ্রতুলতার কারণে বিমানবন্দর টি পরিত্যক্ত করা হয়। শমশেরনগর এয়ারপোর্টটি যশোর বিমান বন্দরের আদলে নির্মাণ করা হলে এবং বাংলাদেশ বিমান এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা গুলি এখান যৌথ ভাবে সপ্তাহে অন্তত চার দিন ফ্লাইট পরিচালনা করলে পর্যটক ছাড়াও জেলার বিপুল প্রবাসী জনসাধারণ ভীষণ ভাবে উপকৃত হতো। শমসেরনগর এয়ারপোর্ট রানওয়ে ৬ হাজার ফিট বা এক দশমিক ৮ কিলোমিটার লম্বা যা বর্তমানে অভ্যন্তরে রুটে পরিচালিত বাংলাদেশ বিমানের ও প্রাইভেট বিমানের বিমানগুলি অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবে। ইতিমধ্যেই ইউএস বাংলা অন্যান্য এয়ারওয়েজ বিমানবন্দর ব্যবহারে প্রাথমিক ইচ্ছা পোষণ করেছে তাই মৌলভীবাজার জেলার পর্যটক ও প্রবাসী জনগণের সুবিধার্থে কমলগঞ্জ উপজেলার শসসের নগরে অবস্থিত বিমানবাহিনীর এই ঘাঁটির একটি অংশে একটি ছোট বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এই জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ টি প্রদান করছি।
উত্তরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম রিতা সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানকে এ প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য শমসেরনগর বিমান বন্দর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ৬২২ একর ভুমির ওপর বিমান ঘাঁটিটি অবস্থিত। সর্বশেষ বিআর এস জরিপে ওই ভুমি প্রতিরক্ষা বিভাগের অনুকুলে শমসেরনগর বিমানঘাঁটি নামে রেকর্ড ভুক্ত হয়। এ ভুমির উন্নয়ন কর প্রতিরক্ষা বিভাগ পরিশোধ করে যাচ্ছে। বিমানবন্দরটিতে বর্তমানে ৬ হাজার ফিট লম্বা রানওয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ওই ভুমি বর্তমানে বিমান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ভুমিতে বিমানবাহিনীর একটি রিক্রুটিং ট্রেনিং স্কুল এমটি ট্রেণিং ম্যাচ বিএএফ অফিসার্স ম্যাচ মসজিদ বিএএফ শাহীন কলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও স্থাপনা রয়েছে।
এ অবস্থায় বিমানবন্দর নির্মাণ করতে হলে এই সম্পত্তি বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার অধীন বা তার ওপর ন্যস্ত ভুমি ইমারত বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটি পূর্ত কাজ যন্ত্রপাতি কলকব্জা সরঞ্জামাদি উপাদান ও স্থাপনাসহ সকল সম্পত্তি এবং দায় দায়িত্ব বেবিচকের নিকট হস্তান্তর ও ন্যস্ত করতে হবে। শমসেরনগর বিমান বন্দরটি পূর্ব প্রান্ত ভারতীয় সীমান্তর অতি সন্নিকটে অবস্থিত। তাই ওই ভূমিতে বিমানবাহিনীর একটি রিক্রুটিং ট্রেনিং স্কুল এমটি ট্রেনিং ম্যাচ বিএএফ অফিসার্স ম্যাচ মসজিদ বিএএফ শাহীন কলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও স্থাপনা রয়েছে। এই স্থানে বিমানবন্দর নির্মাণ করতে হলে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ১৯৮৫ এর ২৬ অনুচ্ছেদ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৭ এর ৪ এর ও-ই অনুযায়ী বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার অধীন বা তার ওপর ন্যস্ত ভুমি ইমারত বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটি পূর্ত কাজ যন্ত্রপাতি কলকব্জা সরঞ্জামাদি উপাদান ও স্থাপনাসহ সকল সম্পত্তি এবং দায় দায়িত্ব বেবিচকের নিকট হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত করতে হবে। শমসেরনগর বিমান বন্দরটি পূর্ব প্রান্ত ভারতীয় সীমান্তর অতি সন্নিকটে অবস্থিত। তাই বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া বিমানবন্দরটির বিদ্যমান রানওয়ে ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ফিক্সড উইং এয়ারক্রাফট যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য বর্তমানে উপযোগী নয়। বর্তমানে বিদ্যমান রানওয়েতে শুধু হেলিকপ্টার ওঠানামার ব্যবস্থা রয়েছে। শমসেরনগর বিমান বন্দরসহ অন্যান্য বিমান বন্দর বাণিজ্যিক ব্যবহার উপযোগিতা যাচাই করার জন্য অলেরডি আমরা ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি কার্যক্রম শুরু করেছি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বিমানচলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চলমান রয়েছে এ ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির। বর্তমানে আমাদের দোশে তিনটি আন্তর্জাতিক পাঁচটি ডমেস্টিক বিমানবন্দর অপারেশন চলমান রয়েছে। এছাড়াও আমরা নতুন ৮টি বিমানবন্দরকে অপারেশনের উপযোগী করার পরিকল্পনায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ বিমানবন্দর গুলি ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি সম্পন্ন করে অপারেশনাল করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন