ধরা পড়েছে ঠিকাদারের সেই ড্রাইভার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

ধরা পড়েছে ঠিকাদারের সেই ড্রাইভার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারার জন্য বাঁশ নিয়ে ধাওয়াকারী ঠিকাদারের গাড়িচালক মো. বিল্লাল হোসেন ধরা পড়েছে। গত রোববার রাত ৮টার দিকে র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-৭ এবং পুলিশ যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের চানগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বিল্লাল এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি। গতকাল নবীনগর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয় তাকে। থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বিল্লালের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এর আগে প্রকৌশলীকে মারধরে জড়িত থাকার অভিযোগে ঠিকাদারের ম্যানেজার ফোরকান মিয়াকে আটক করা হয়। ঠিকাদার মো. লোকমান মিয়াকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান ওসি। গত ১৩ই এপ্রিল জেলার নবীনগরের শিবপুরে এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলামকে মারধরের করে ঠিকাদার ও তার লোকজন। স্থানীয় মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি বিশেষজ্ঞ দল সড়ক নির্মাণকাজ পরিদর্শন করার সময় তাদের সামনেই প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। প্রকৌশলীকে মারতে বাঁশ নিয়ে ধাওয়া করার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ওই দিনই সন্ধ্যায় থানায় একটি মামলা করেন হামলার শিকার এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম। এতে ঠিকাদার লোকমান হোসেন ও তার গাড়িচালক বিল্লাল ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়। থানায় দেয়া এজাহারে অভিযোগ করা হয়Ñ নিম্নমানের কাজ পরিদর্শনে বাধার সৃষ্টি করতে ধাওয়া করে মারধর করা হয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুলকে। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে লোকমান এলাকার শক্তি দেখান এবং প্রকৌশলীদের গালিগালাজ করতে থাকেন। তরিকুল গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ঠিকাদার লোকমান ও তার ড্রাইভার বিল্লালসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তরিকুল এবং অন্য প্রকৌশলীদের লাঠি নিয়ে তাড়া করে। এ সময় তরিকুলের পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং ইট দিয়ে ঢিল মেরে আহত করা হয়। তরিকুলকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এলজিইডি’র কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার এই কাজটি নেন জেলা সদরের বাসিন্দা, মেসার্স লোকমান হোসেন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী লোকমান। কাজ শুরুর পর থেকেই কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সে কারণে কাজটি দেখতে চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের কর্মকর্তা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ আলমগীর ও আহম্মদ আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী তরুণ কুমার বৈদ্য সেখানে আসেন। তাদের সঙ্গে সেখানে যান নবীনগর এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান মজুমদার ও মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন