নারায়ণগঞ্জে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে একজনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এবং এলোপাথাড়ি গুলিতে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তখন স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে শামীম ওরফে জুয়েল নামে একজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর পশ্চিম রসুলপুর ভাঙ্গারপুল এলাকায় সুমন মিয়ার ফেক্সিলোডের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দু’দিন পূর্বে সুমন মিয়ার দোকান থেকে শামীম ওরফে জুয়েল নামের আটক ওই ব্যক্তি ২ হাজার টাকা ফেক্সিলোড করে টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। এতে সুমন তাকে আটক রেখে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে রোববার রাত সাড়ে ১১টায় দু’টি মোটরসাইকেলযোগে শামীম সহ তারা ৪-৫ জন যুবক সুমনের ফেক্সিলোড দোকানে আসে। এরপর তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সুমনকে মোটরসাইকেলে ওঠানোর চেষ্টা করে। তখন স্থানীয় আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চায়।
এ সময় তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। তখন তারা পালানোর জন্য এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এ সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। তখন স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধাওয়া করে। এতে অন্যরা পিস্তলসহ পালিয়ে গেলেও মোটরসাইকেলসহ শামীম ওরফে জুয়েলকে আটক করে গণধোলাই দেন স্থানীয় জনতা।
এরপর পুলিশ এসে তাকে চারটি গুলির খোসাসহ থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, চারজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে আমির হোসেন নামে একজনের অবস্থা গুরুতর। অন্যরা গুলিবিদ্ধ হয়নি তবে শরীরের বিভিন্ন স্থান ঘেঁষে গেছে গুলি। এতে তারা সামান্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মারধরে আটক ব্যক্তি নিজের নাম একবার বলেছে শামীম, আরেকবার বলেছে জুয়েল। সে কিছুটা অসুস্থ তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে অস্ত্রধারীদের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
