এনসিটি নিয়ে জাতীয় স্বার্থের বাইরে যাবে না সরকার- নৌপরিবহনমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে এনসিটির দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, শ্রমিকদের দাবি এবং বন্দরের উন্নয়ন সম্ভাবনা বিবেচনা করেই নেয়া হবে। গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৫ জেটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বিদেশি বিনিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখা হলেও সরকারের প্রধান বিবেচনা থাকবে দেশের স্বার্থ। কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান যদি বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে, তবে সরকার তা পর্যালোচনা করবে। একইসঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থও বিবেচনায় রাখা হবে। মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হলেও তারা প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশা করে। শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো যেভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করেছে, বাংলাদেশকেও সেই বাস্তবতায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সবকিছু নতুন প্রকল্প পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ল্যান্ডলর্ড মডেল নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায়। এতে কন্টেইনার টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। সফরকালে বন্দর কার্যক্রম ঘুরে দেখে বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে যেসব প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। শেখ রবিউল আলম বলেন, আমাদের বৃহত্তর স্বার্থটাও চিন্তা করতে হবে। আমরা একটা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের সম্ভাবনাগুলোকে যদি কাজে লাগাতে চাই তাহলে অন্যদেরও, যারা বিনিয়োগ করবে, তাদের কিছু রাইট রয়েছে। সেখানেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটা প্রতিযোগিতা আছে। ভিয়েতনাম যে সুবিধা দিচ্ছে, শ্রীলঙ্কা দিচ্ছে, ইন্ডিয়া দিচ্ছে, দিয়ে তারা আবার সুবিধা নিচ্ছে। আমাদের কোনো কোনো জায়গায় উদার হয়ে বেশি সম্ভাবনা বা বেশি সুবিধা নেয়ার মানসিকতাটা তৈরি করতে হবে। চট্টগ্রাম সফর সফল হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যদি আমরা পুরো বিষয়টি সমন্বিতভাবে ফাংশন করতে পারি, সেটা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাই, সমৃদ্ধি চাই, অর্থনীতি বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা যেসব সেক্টর থেকে, তার সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে। সেজন্য চট্টগ্রামে ভিজিট। কিছু সিদ্ধান্ত আমরা প্রাথমিকভাবে নিতে সমর্থ হয়েছি। আর কিছু সিদ্ধান্ত ঢাকায় গিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কনসার্ন নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে এসে নৌমন্ত্রী বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন