৩০ আসনে কারচুপির অভিযোগ

ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াতের

ফন্ট সাইজ:

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৩০ আসনে ব্যাপক কারচুপি, জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ করে ওইসব আসনের ভোট পুনর্গণনা ও ফল স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে আবেদন দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানো হয়।
গতকাল মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই তথ্য জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযাম হোসেন হেলাল, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রোটারি ড. আব্দুল মান্নান, পাবনা-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাংবাদিক ওলি উল্লাহ নোমান।
সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিল। নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বহু স্থানে এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোট গণনায় গরমিল, ফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু আসনে ভোর পাঁচটার দিকে ফল দেয়া হয়েছে, আবার কোথাও দ্রুত ফল ঘোষণা করা হয়েছেÑ যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তিনি জানান, যেসব আসনে পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার ভোটের ব্যবধানে ফল হয়েছে, সেসব জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে দলটি। স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ সময় ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল মান্নান কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল কপি দেখিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, কিছু কেন্দ্রে প্রিন্টেড ফলের বদলে হাতে লেখা কাগজ দেয়া হয়েছে, কোথাও পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেই, আবার কোথাও অচেনা ব্যক্তির নাম এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি একটি কেন্দ্রে পেন্সিল দিয়ে ফল লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচনের রাতেই ফল স্থগিতের আবেদন করা হলেও তা আমলে নেয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সর্বাধিক আসন পাওয়া দলের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, পুনর্গণনা হলে প্রকৃত ফল বেরিয়ে আসবে এবং যাদের পরাজিত দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকেই বিজয়ী হবেন।
এডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, রেজাল্ট শিটে ওভার রাইটিং ও ঘষামাজা হয়েছে- আমরা এ সমস্ত বিষয়গুলো নির্বাচনের দিনেও তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছিলাম। কিছু কিছু আসনে ফলাফল প্রকাশে অনেক দেরি হয়েছিল আবার কোনো কোনো আসনে বিদ্যুৎ গতিতে দেয়া হয়েছে। এভাবে অনেক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হয়েছে। যে সমস্ত আসনে এ ধরনের নির্বাচনী অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হয়নি সেই আসনগুলোর ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ভোট পুনর্গণনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আমরা আহ্বান জানিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আমরা জানাবো এবং সম্ভাব্য সবধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

নির্বাচনী সহিংসতায় কয়েকজন আহত ও নিহতসহ বেশকিছু হামলার তথ্য তুলে ধরে এডভোকেট জুবায়ের বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়া দলটি তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ সহিংসতামুক্ত দেখতে চাই- যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু কোনো ধরনের সহিংসতা থাকবে না।

এ সময় যে ৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনার জন্য আবেদন করা হয়েছে তা তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল। তিনি বলেন, এসব আসনে ভোট পুনর্গণনা করলে সত্য প্রকাশিত হবে এবং যাদের পরাজিত করা হয়েছে তারা বিজয়ী হয়ে আসবেন।
পরে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান তার নির্বাচনী আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরেন। তার তুলে ধরা তথ্যের মধ্যে রয়েছে-ফলাফল শিটে এজেন্টদের নামের গরমিল (যে নামের এজেন্ট দেখানো হয়েছে তা তিনি দেননি), এজেন্টদের এনআইডি না থাকা, ওভার রাইটিং, ফলাফল শিটে কার্বন কপি করে লেখা, পেন্সিল দিয়ে লেখা, পোলিং এজেন্টের নাম না থাকা, ফটোকপির ফলাফল শিট ব্যবহার ও কলম দিয়ে কেন্দ্রের নাম লেখা- যেখানে প্রিন্ট লেখা থাকে সাধারণত।

ভোট পুনর্গণনার জন্য আবেদন করা আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে-ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪, কক্সবাজার-৪।

MD Khan

৫ মাস আগে

সবার আগে দরকার মন্ত্রী পরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদের টোটাল কর্মকান্ড পর্যালোচনা করা। সাতক্ষীরায় সব গুলি আসনে জামাত জিতেছে কিভাবে ? সাতক্ষীরা তার বাড়ি। সাতক্ষীরা ছাড়াও সকল জেলায় ডিসি, এসপি নিয়োগে তার হাত আছে। নাহলে জামাত ১৫ থেকে ২০ টা আসনের বেশি পাওয়ার কথা না। এই জামাত কি করে ৬৮ টা আসন পেল এটা তদন্ত করে দেখা দরকার।

Ridwan

৫ মাস আগে

অন্ততপক্ষে এই আসন গুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়ে অভিযোগ এর সুষ্ঠ সমাধান করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন