ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘর। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের পক্ষের লোকজনের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয় নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও তার সহযোগীদের নিয়ে ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করতে যান। এ বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার ওই জমিজমার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ওই স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এর জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকরা কমলেশ্বরদী বাজার সংলগ্ন বিএনপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় ছিরু মাতুব্বর সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, হামলায় শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। বিল্লাল হোসেন বলেন, কোর্টে রায় থাকা সত্ত্বেও আমি জমির দখল নিতে পারিনি। বর্তমানে ওই জমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দখলে রয়েছে। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার বাড়িতে তালা লাগানো হয়েছে এবং আমার লোকজনকে উস্কানি দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয়। এটি সঠিক নয়। এ ব্যাপারে ফরিদপুরের এএসপি (মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা সার্কেল) আজম খান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
