শাল্লায় শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। অকাল বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং তীব্র শ্রমিক সংকট এই তিনটি সমস্যার সম্মিলিত প্রভাবে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। উপজেলার অধিকাংশ হাওরের ধান ইতিমধ্যে পেকে গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক হাওরে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও জমি তলিয়েও গেছে। ফলে হারভেস্টারসহ কোনো ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
তাজপুর গ্রামের কৃষক শান্তি মিয়া জানান, আগে ধান কাটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা হাওরে কাজ করতে আসতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে যান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ায় সেই প্রবণতা কমে গেছে। ফলে বর্তমানে শ্রমিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে। তিনি বলেন, “এ বছর পানির কারণে মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আবার শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় মজুরিও বেড়ে গেছে। প্রতিজন শ্রমিককে তিনবেলা খাবারসহ দৈনিক প্রায় এক হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
ছায়ার হাওরের কৃষক বাছেদ মিয়া বলেন, আমার প্রায় ১০ কেয়ার জমিতে ধান হয়েছে। ধান পুরোপুরি পেকে গেছে, কিন্তু জমিতে পানি থাকায় মেশিন নামাতে পারছি না। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, আর যারা আছে তারা বেশি মজুরি চাচ্ছে। প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকিÑ কখন আবার বৃষ্টি নামে সেই ভয় কাজ করছে। পানি আরও বাড়লে পাকা ধান তলিয়ে যাবে, তখন সারা বছরের পরিশ্রম বৃথা যাবে। এদিকে, শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং দ্রুত ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। যেখানে মেশিন ব্যবহার সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্পভাবে শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, হাওরের পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। কৃষকদের ধান দ্রুত ঘরে তুলতে যা যা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন