মোবাইল সার্ভিসিংয়ের আড়ালে তথ্য চুরি

ফেক আইডি দিয়ে অপপ্রচার খানসামায় যুবক গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ফেক আইডি ব্যবহার করে গোপন ছবি ও ভিডিও ফাঁস এবং অপপ্রচার চালানোর ঘটনায় ‘হক প্রকাশ’ নামে আলোচিত আইডি’র সহযোগী সন্দেহে মোবাইল মেকার শাহিন আলম (৩০)কে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট বাজারে ‘শাহিন টেলিকম’ নামে একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান পরিচালনা করে আসছেন শাহিন আলম। তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘হক প্রকাশ’ আইডি’র সহযোগী সন্দেহে শাহিন আলমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করে পুলিশ। তার মোবাইলে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে গোপন চ্যাটিংয়ের প্রমাণ পায়। এ ছাড়াও ১০ থেকে ১১টি ফেসবুক আইডি লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়। যেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হতো বলে ধারণা করছেন পুলিশ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. সুজন শেখ বলেন, গত ১লা জানুয়ারি তার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে নষ্ট হলে, সেটি মেরামত করার জন্য শাহিন আলমের দোকানে দেন। সেটি দুইদিনের মধ্যে মেরামত করে দেয়ার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে দেননি। এরইমধ্যে গত ৩রা জানুয়ারি আনুমানিক রাত ১০টার দিকে ‘হক প্রকাশ’ নামের আইডি থেকে তার মেসেঞ্জার অ্যাপ্লিকেশনে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। এ বার্তায় দাবি করা হয়- তার ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তাদের নিকট রয়েছে। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই আইডি থেকে তাদের ব্যক্তিগত ছবি পোস্ট করা হলে বিষয়টি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মোবাইলটি মেরামতের সময় তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে শাহিন আলম। পরে তিনি ‘হক প্রকাশ’ নামের ফেক আইডি’র সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব তথ্য সরবরাহ করেন এবং অপপ্রচার চালাতে সহযোগিতা করেন।
শুধু তাই নয়- শাহিন আলম নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য সরবরাহ করতেন। যা ব্যবহার করে মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট তৈরি করা হতো। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, ‘হক প্রকাশ’ নামের আইডি থেকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত লোকজনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। এতে সামাজিক বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছিল এবং লোকজনের মধ্যে এক প্রকার ভীতি তৈরি হচ্ছিল।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাসেত সর্দার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শাহিন আলমের মোবাইলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বিভিন্ন ফেসবুক আইডি’র সংযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ‘হক প্রকাশ’ আইডি’র মূল নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন