পাবিপ্রবিতে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে জুনিয়রদের মারধরের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তরা হলেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (১৫ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন, রাইসুল ইসলাম সিজান, শুভজিৎ কর্মকার ও সিয়াম সরকার। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সংগঠনের সভাপতি মুজাহিদ হোসেনের অনুসারী।
গতকাল রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলিভেটেড এলাকায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (১৬ ব্যাচ) রিমন, আশিক, রবিনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহত রিমন বাসায় ফেরার পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই সহপাঠীরা পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন সিনিয়র দীর্ঘদিন ধরে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে যুক্ত করতে চাচ্ছিলেন। সেজন্য সিনিয়ররা ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে রাজি না হওয়ায় সিনিয়ররা তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। এ নিয়ে গতকাল ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সিনিয়ররা ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পিকনিকের নাম করে ক্যাম্পাসে ডাকেন। কিন্তু সেই পিকনিকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়ররা আসেননি। পরে সিনিয়ররা ওই ব্যাচের ৭-৮ জন জুনিয়রকে ক্যাম্পাসে ডাকেন। তখন জুনিয়ররা কেন পিকনিকে আসেনি এ নিয়ে প্রথমে সিনিয়ররা তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন এবং একপর্যায়ে জুনিয়রদের মারধর করেন।
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সিনিয়র কয়েকজন ভাই আমাদের আমাদের বলতেছেন ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়রদের কে কোথায় যাচ্ছে, কে কোথায় পলিটিক্স করতেছে তোরা তো জানিস না। ওই জুনিয়রদের ৭ জন রাজনীতি করে। তোরা ওদেরকে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দে। ওরা হয়তো অন্যদিকে পলিটিক্স করতেছেÑ অন্য কেউ ওদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবে। তোরা যেহেতু ওদের ইমিডিয়েট সিনিয়র তোরা ওদেরকে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দে।’
আরেক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি না কিন্তু উনারা রাজনীতি করেন। আমরা তো ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে আসিনি, এখানে এসেছি পড়াশোনা করতে। যারা রাজনীতি করেন উনারা চাচ্ছেন আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে। আমরা ভাই দূর থেকে এখানে পড়তে এসেছি। উনারা কিছু হলেই হুমকি-ধমকি দেয়, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেন।’‎
আহত শিক্ষার্থী রিমন বলেন, ‘সিনিয়ররা আমাদের ডেকে নিয়ে অন্যায়ভাবে গায়ে হাত তুলেছেন। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই। প্রশাসন যাতে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করেন।’
এ বিষয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম সিজান বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টের চেইন অব কমান্ড অনুযায়ী ইমিডিয়েট সিনিয়র ব্যাচ জুনিয়র ব্যাচকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস হয়ে গেলেও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়ররা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়রদের আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। তাই আমরা দুই ব্যাচকেই ক্যাম্পাসে পিকনিকের জন্য ডাকছিলাম। কিন্তু ‎২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ওরা আসেনি। ওরা ওদের মেসেঞ্জার গ্রুপে ভোটিং সিস্টেম করেছে যে, বড় ভাইয়েরা ডেকেছে তোরা যাবি কিনা। সেখানে মেয়েরা সবাই আসতে চাইলেও ছেলেরা আসতে চায়নি। ব্যাচের যে মেয়েরা আসতে চেয়েছিল তাদের ওই ব্যাচের ছেলেরা আজে বাজে ভাষায় কথা বলেছে। আমাদের কাছে এর স্ক্রিনশটসহ প্রমাণ আছে। এজন্য আমরা আজকে হল ও এর আশপাশে যেসব ছেলেরা থাকে তাদের ডাকছিলাম বিষয়টি মিনিমাইজ করে দেয়ার জন্য। কিন্তু ওরা এসে শুরু থেকেই এগ্রেসিভ মুডে ছিল। একপর্যায়ে এগ্রেসিভ হয়ে চলে গেল। আমরা সবাই এলিভেটরের উপরেই রয়েছি। কিন্তু ওরা বাঁশ ভেঙে নিয়ে এসে আমাদের ওপর আক্রমণ করতে এসেছে। ওরা ২০ জনের মতো ছিল এবং আমরা ৭ জনের মতো ছিলাম। ওরা আমাকে মেরেছে।’
‎ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান অভি বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসে নেই। কাল রাতে ঘটনা শোনার পর আমরা উভয়পক্ষকে শান্ত হয়ে চলে যেতে বলি। আমি ক্যাম্পাসে ফিরে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসবো। আমাদের এন্টি র‌্যাগিং কমিটি আছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রসাশনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘গত রাতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র জুনিয়র ব্যাচের মারামারির বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। বিষয়টি জানার পর ওই বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছি। তিনি ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পিকনিকে গেছেন। আজকেই চলে আসবে বলে আশা করছি। চেয়ারম্যান আসলে তার সঙ্গে আমি বিষয়টি নিয়ে বসবো। আর রাইসুল ও ইমরানের বিষয়ে আগেই আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ আছে। দুইপক্ষের সঙ্গেই বসে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’ ‎উল্লেখ্য, এর আগেও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অর্ধ-উলঙ্গ করে র‌্যাগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন