ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু নিশাত হত্যা

আদালতে স্বীকারোক্তি ইসহাকের

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ বছরের শিশু নিশাত জাহান হত্যায় জড়িত ইসহাক মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল বিকালে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তি দেয় সে। এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর স্কুল শিক্ষার্থী নিশাতের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
১৫ই এপ্রিল দোকান থেকে চিপস কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় নিশাত। এ বিষয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় এক যুবক মোরগ ধরতে গিয়ে নিশাতের বাড়ির কাছেই একটি বস্তার ভেতর লাশ দেখতে পায়। বিষয়টি নিশাতের পরিবারকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে নিশাতের পরিহিত কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করে।
সে সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী।
ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় তার মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এলাকায়। পরদিন শনিবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির প্রতিবেশী, অটোচালক ইসহাক মিয়াকে আটক করে এবং হত্যা রহস্য বের করতে সক্ষম হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সচীন চাকমা জানান, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইসহাক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। ঘটনার দিন দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে নিশাতের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে সে ঘুরানোর কথা বলে নিশাতকে নিয়ে সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে যায়। সারাদিন ঘুরে রাত ১০টার দিকে নিশাতকে নিয়ে গ্রামে ফিরে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তারপর নিশাতকে বাড়িতে যেতে বলে। ওইদিন বাড়িতে ইসহাক একাই ছিল বাড়িতে। তার স্ত্রী-সন্তান ছিল শ^শুরবাড়িতে। তিনি আরও বলেন, ইসহাকের উদ্দেশ্য ছিল রাতে সে নিশাতের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করবে। একপর্যায়ে নিশাতে খারাপ আচরণ করলে বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বলে দেবে বলে জানায়। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইসহাক তার গেঞ্জি দিয়ে নিশাতের মুখ চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর সে লাশ বস্তায় ভরে ঘরেই রাখে। একদিন পর লাশ এনে বাইরে ফেলে রেখে যায়।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে ইসহাক মিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা ইসহাকের ফাঁসির দাবি করে সেøাগান দিতে থাকে। পরে শনিবার বিকালে উত্তেজিত জনতা ইসহাকের বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পিবিআই সূত্র আরও জানায়, ইসহাকের বাসা থেকে শ্বাসরোধ করার কাজে ব্যবহৃত গেঞ্জিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর যে পার্কে ঘুরতে যায় সেখানেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন