চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাবশালীদের দখলে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বহু খাল। নতুন ও পুরনো অনেক খাল এরই মধ্যে বেদখল হয়ে গেছে। খোয়াজনগর উপজেলার প্রাচীনতম একটি খাল। কালের বিবর্তনে আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে খালটি। প্রভাবশালী মহল ও দখলদাররা দিনের পর দিন খালটি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন খালের পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে খালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে দূষিত হচ্ছে খাল ও খালসংলগ্ন এলাকার পরিবেশ। ফলে চরমভাবে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। দখলদাররা যে যার মতো অবৈধভাবে দখল করে চলেছে খালের দুই পাশ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইচ্ছামতো খাল গিলে খাচ্ছে প্রভাবশালীরা। সরজমিন দেখা যায়, ২০টিরও অধিক বড় বড় দালান বাড়ি থেকে শুরু করে টাইটানিক জাহাজের আকৃতিতে নির্মিত বিশাল স্থাপনা খালের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকায় খালের জায়গা ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বসতবাড়ি, মার্কেট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এতে করে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোয়াজনগর খালের জমির পরিমাণ ৮ একর ৮৩ শতক। পূর্বে খালটির প্রস্থ ছিল ৭০-৫০ ফুট। কিন্তু খালের দুই পাশে অবৈধভাবে দখলের কারণে খালটি বর্তমানে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই খালে নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করতো। গ্রামের মানুষ শহর থেকে সওদা করে ঘরে ফিরতো এ খাল দিয়েই। গত ২০ বছর আগেও এ খাল দিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতেন গ্রামের মানুষ। বর্তমানে বিভিন্ন কলকারখানা, হাটবাজার এবং বিভিন্ন বর্জ্য-পানি সরাসরি খাল দিয়ে গিয়ে পড়ছে কর্ণফুলী নদীতে। বর্ষা মৌসুমেও খালটি সরু হয়ে থাকায় জলাবদ্ধতার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এতে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, খোয়াজনগর খালটির উৎপত্তি চরপাথরঘাটায়। নয়াহাট সেতুর পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ি হয়ে খালটি চলে গেছে নওয়াব আলী মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত। সেখান থেকে খোয়াজনগর কালাইয়ার দোকান হয়ে উত্তর-দক্ষিণে এর সীমারেখা। চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ জুয়েল জানান, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মুখ থেকে শুনেছি একসময় এ খাল হয়ে ডাঙারচর ধোনার খাল দিয়ে বের হওয়া যেত এবং খুব সহজেই যাতায়াত করা যেত। কিন্তু খালটি বর্তমানে ভরাট হয়ে তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে কর্ণফুলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, সরজমিন খালটি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে খালটি দখল করে থাকে তা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। খাল দখলমুক্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বিলীনের পথে খোয়াজনগর খাল
মু. সগীর মাহমুদ, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) থেকে
২০ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
