জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বললেন মন্ত্রী, অসন্তোষ প্রকাশ করলেন স্বতন্ত্র সদস্য

ফন্ট সাইজ:

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা। তেলের মজুদদারি কারা করছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা পরিষ্কার করার জন্য দাবি জানান তিনি। পরে সরকার দলীয় পক্ষ থেকে হট্টগোল শুরু হয়ে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়। রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ মন্ত্রী এবং রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংসদে নেত্রকোণা-৫ আসনের সাংসদ মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি মার্চ ২০২৬ মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে এই কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জনমনে ভীতি ও অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা (চধহরপ ইুঁরহম) সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাম্পে মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেয়া বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই।
সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসি কর্তৃক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদকারীদের ধরতে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫ লক্ষ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ওদিকে সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, সরকার জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করছে। অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, অথচ বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। ড্রাইভাররা মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না। সরকারের যদি কোনো সংকটই না থাকে, তবে এই লম্বা লাইন কেন? কেন তেলের দাম বাড়াতে হচ্ছে?
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মার্কেটপ্লেস রাত ৮টার পরিবর্তে ৭টায় বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অদূরদর্শী। মানুষ কেনাকাটা সাধারণত সন্ধ্যার পরেই করে। এছাড়া অফিস-আদালতের কর্মঘণ্টা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সরকারের মন্ত্রীরা গণমাধ্যমে সংকট নেই বলে যে দাবি করছেন তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এই সংসদের মাধ্যমে জানতে চাই, বর্তমানে দেশে অকটেন ও ডিজেলের প্রকৃত মজুদ কতদিনের আছে? পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল কেন সরবরাহ করা হচ্ছে না? তেলের মজুদদারি কারা করছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা পরিষ্কার করতে হবে। এরপরই সরকার দলীয় পক্ষ থেকে হট্টগোল শুরু হয়ে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়।
কুইক রেন্টালে লুটপাট হওয়া পাচারের টাকা ফিরিয়ে আনা হবে:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান তিনি। অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের (পাবনা-৫) এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। রোববারের প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ জারি করা হয়েছিল। এই আইনের আওতায় কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র বা ক্রয় প্রক্রিয়া ছাড়াই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অযাচিত প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করা হয়।
তিনি বলেন, এই আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন করা হতো। এই প্রক্রিয়ায় প্রায়ই বিদ্যুতের অন্যায্য মূল্য এবং অস্বাভাবিক ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হতো। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও জড়িত ছিলেন। এতে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ওই বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। ওই অধ্যাদেশটি গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। এর ফলে আগের মতো স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হায় হায় করছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। সংসদে জরুরি জন গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনযোগ আর্কষণ করে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, গাজীপুর কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে যেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যু না থাকার কারণে সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরিক্ষার্থীরা হায় হায় করছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে চারদিকে যে সংকট চলছে এটা উত্তোরণে আশু ব্যবস্থা না করলে সংশ্লিষ্টরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব সমস্যা দ্রুত নিরসনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই সংসদের বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছে। যা চার হাজার টাকার পণ্য ২১ হাজার কোটি টাকায় কেনা হয়েছে। এমন দুর্নীতি বিগত সময়ে হয়েছিল।


সিরু

১ মাস আগে

মিথ্যুক জামাতি জঙ্গি রাজাকারেরা মিথ্যাচার করে পরিকল্পিত পেনিক সৃষ্টি করছে।

Amirhswapan

১ মাস আগে

জ্ঝলানী তেলের সংকট নেই মন্থী যখন বলেন,তখন মনে পড়ে যায় ফ‍্যাসিষ্ঠ হাসিনার কথা। সুরটা কি এক হয়ে গেল না ?

মন্তব্য করুন