অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদ নির্মাণে প্রবাসীদের ১০ লাখ ডলার অনুদান

অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদ নির্মাণে প্রবাসীদের ১০ লাখ ডলার অনুদান

ফন্ট সাইজ:

অস্টেলিয়ার সিডনির পাঞ্চবোল এলাকায় অনুষ্ঠিত এক ব্যতিক্রমী মসজিদ নির্মাণে তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আবারও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে আয়োজিত এই বিশেষ ডিনার পার্টি ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসলিম কমিউনিটির নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
গ্লেনকোয়ারি মসজিদ ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আবহ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য সমন্বয় দেখা ছিল লক্ষ্যণীয়। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সূচিত এই আয়োজন ধীরে ধীরে আবেগঘন পরিবেশে রূপ নিতে দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানে ইসলামিক চিন্তাবিদ ওমর আল বান্না দানের তাৎপর্য তুলে ধরে হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য দেন। তিনি উপস্থিত সবার মাঝে মানবিকতা ও পরকালীন সাফল্যের বার্তা পৌঁছে দিয়ে ধাপে ধাপে অনুদানের আহ্বান জানান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিতরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দানে অংশ নেন। অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থ দান করার পাশাপাশি কিছু প্রবাসী নারী তাদের ব্যক্তিগত স্বর্ণালংকার পর্যন্ত এই মহৎ কাজে উৎসর্গ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এটি কেবল একটি উপাসনালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নয়;বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে এই উদ্যোগ। বিশেষ করে তরুণদের সঠিক পথে পরিচালনায় এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

আয়োজকদের প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে পুরো অনুষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার সংগ্রহ হয়েছে। যেখানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার, সেখানে এই তহবিল সংগ্রহ ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান আয়োজকরা জানান, প্রবাসী কমিউনিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই উদ্যোগকে সফলতার পথে এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সবাই একযোগে এগিয়ে এলে অস্ট্রেলিয়ায় একটি আধুনিক ও আলোকিত ইসলামিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

আনিস উল হক

১ মাস আগে

আরো উত্তম হোত যদি বাংলাদেশের মত দরিদ্রতম মুসলিমদেশগুলোর মেধাবী ছেলেমেয়েদের জন্যে, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যা শিক্ষার বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোত।

বড়লাট

১ মাস আগে

আপনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কি উদ্যোগ নিয়েছেন, বা প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কত টাকা কি খাতে দান করেছেন? নাকি শুধু মসজিদ মাদ্রাসার জন্য টাকা পয়সা উঠছে দেখলেই এটার কথা মনে পড়ে?

হারুন আল রশিদ

১ মাস আগে

সিডনী প্রবাসী ভাইদের অভিনন্দন! তবে অত্যন্ত সবধানতায় লক্ষ্য রাখতে হবে যে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আল্লাহর নির্দেশ হলো;-'' তারাইতো আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে, যারা ঈমান আনে আল্লাহ ও আখেরাতে, এবং সালাত (সংযোগ স্থাপন) প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় (পরিশুদ্ধতা অর্জন করে) এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাহাকেই ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা হবে সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত''। সূরা তওবাঃ ৯ঃ১৮। বেদনার কথা হলো বাংলাদেশের শহরসমূহের কিছু মসজিদ ছাড়া দেশের হাজার হাজার মসজিদ ভিক্ষা নির্ভর কতগুলো অবহেলিত প্রতিষ্ঠান। অথচ প্রত্যেক এলাকার ধনী বিত্তবানগণ ঐ সমস্ত ভিক্ষা নির্ভর প্রতিষ্ঠানে একটু মনোযোগি হলে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ মানে সত্যিকারের কুরআন চর্চার কেন্দ্র হয়ে উঠতো।

মন্তব্য করুন