ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচয়ে ফোন করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে। শনিবার এলাকায় ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে সৃষ্টি হয় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের। প্রতারণার শিকার হয়েছেন উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের আরাজি কিসমত সিন্দাগর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম। সরকারি অনুদান পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অত্যন্ত কৌশলে তার কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।
জানা গেছে, শুক্রবার সকালে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফজলুল করিমের মুঠোফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তার নামে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকার একটি অনুদান বরাদ্দ হয়েছে। তবে ওই অর্থ ছাড় করতে ‘প্রক্রিয়াজনিত খরচ’ বাবদ আগাম ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে হবে বলে জানানো হয়। সরকারি সহায়তা পাওয়ার আশায় সরল বিশ্বাসে তিনি প্রতারকদের দেয়া ডাক বিভাগের ‘নগদ’ মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৪২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরপরই প্রতারকের ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে এবং সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করলে তিনি বুঝতে পারেন যে, একটি প্রতারক চক্র পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ঘটনার পরদিনই ভুক্তভোগী রাণীশংকৈল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। যেসব নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। সরকারি কোনো অনুদান পেতে কখনোই আগাম অর্থ প্রদান করতে হয় না। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
