১৮ লাখ কোটি ডলারের সাম্রাজ্যে নাটকীয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব

১৮ লাখ কোটি ডলারের সাম্রাজ্যে নাটকীয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব

ফন্ট সাইজ:

ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। তারা ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্রে লাখো গ্রাহককে সেবা দেয়। কিন্তু এর উত্থান শুধু বাজারে সাফল্যের ফল নয়, পারিবারিক অভ্যন্তরীণ সম্পর্কও এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০০৫ সালে জনসন পরিবারের ভেতরের টানাপড়েন একটি নাটকীয় নেতৃত্ব সংকট সৃষ্টি করে, যা কোম্পানির ভবিষ্যৎকে নাড়িয়ে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। এ ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান এডওয়ার্ড নেড জনসন থার্ড-এর মেয়ে অ্যাবিগেইল জনসন। তিনি তখন ফিডেলিটির প্রধান মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিভাগ পরিচালনা করছিলেন। তবে তার দায়িত্বকাল ছিল চাপের মধ্যে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের মতে, দুর্বল ফান্ড পারফরম্যান্স, বিনিয়োগকারীদের অর্থ তুলে নেয়া এবং একটি ট্রেডিং কেলেঙ্কারির প্রভাব- এসব কারণে ব্যবসাটি সমস্যায় পড়ে। কোম্পানির সিনিয়র নির্বাহী ও বোর্ড ট্রাস্টিদের মধ্যে উদ্বেগ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন ট্রাস্টি মারভিন ম্যান জনসনের বাসায় গিয়ে তার কাজের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সরাসরি জানান যে, তিনি ভালো কাজ করছেন না। কয়েক দিন পর নেড তার মেয়েকে জানান তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। তাকে কোম্পানির দাতব্য কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়, যা স্পষ্টতই পদাবনতি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাবিগেইল এর জবাবে বলেন, আমি পদত্যাগ করছি। কিন্তু কয়েক দিন পর পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে, যখন নেড তাকে ফিডেলিটি এমপ্লয়ার সার্ভিসেস কোম্পানির (ফেসকো) নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তাব দেন। এটা ছিল কোম্পানির দ্রুত বর্ধনশীল একটি ব্যবসা। যদিও এই বিভাগটি গ্রাহক সংখ্যা বাড়াতে সফল হয়, তবুও গ্রাহক সেবার চেয়ে প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য সমালোচনার মুখে পড়ে। অ্যাবিগেইল এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এমন একটি ইউনিটের নেতৃত্বে আসেন, যা নেডের ডেপুটি বব রেনল্ডস তৈরি করেছিলেন। তিনি তার নেতৃত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। পর্দার আড়ালে মতবিরোধ চলছিল। ফিডেলিটির দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়। এর মধ্যে কোম্পানি বিক্রির সম্ভাবনাও ছিল। তবে এর বিরোধিতা করেন অ্যাবিগেইল। তার আশঙ্কা ছিল, বিক্রি হলে ছয় দশকের পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটবে। এর জবাবে তিনি একটি অস্বাভাবিক দৃঢ় পদক্ষেপ নেন। ফিডেলিটির অন্যতম বৃহৎ শেয়ারহোল্ডার হিসেবে অ্যাবিগেইল ইঙ্গিত দেন যে, তিনি বোর্ড পুনর্নির্বাচনে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।
নির্বাহীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় যে, তিনি হয়তো তার পিতাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরাতে সমর্থন জোগাড় করার চেষ্টা করছেন।
এই অচলাবস্থা ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে এক বোর্ড সভায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই জনসন পরিবার একটি সমঝোতায় পৌঁছে, যা সংকট নিরসন করে। সেই সভায় অতিরিক্ত শেয়ার ইস্যুর একটি সিদ্ধান্ত ভোটের ভারসাম্য বদলে দেয়। ফলে নেডের অংশীদারিত্ব বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে অ্যাবিগেইল ফেসকোর নেতৃত্বে থেকেই কাজ চালিয়ে যান। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে চেয়ারম্যান হন এবং ফিডেলিটির আরও বিস্তারের একটি সময়কাল তদারকি করেন। বর্তমানে ৬৪ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগ ব্যবসাগুলোর একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন