সিলেটের জিন্দাবাজারের ওভারসিজ সেন্টার ভেঙে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। বেশ কয়েক মাস আইনি লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার থেকে ব্যবসায়ীদের ‘উচ্ছেদ’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের একটি টিম গিয়ে পজিশনে থাকা ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিতে দেখা গেছে। তবে এ সময় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা। এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া আইনগতভাবে করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
নগরের জিন্দাবাজারে অবস্থিত ওভারসিজ সেন্টার। তিন তলাবিশিষ্ট ওই ভবন ১৯৮২ সালে ভবনটির যাত্রা শুরু করে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ, কেনাকাটা, তথ্যসেবা নিশ্চিত ও আবাসনের কথা মাথায় রেখে ১৯৭৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বাংলাদেশ ওভারসিজ স্টোর ট্রাস্ট গঠন করেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, উদ্বোধনের সময় কয়েকজন প্রবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ একটি দোকান দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে বন্দোবস্ত নেন। ওই সময় জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি বোর্ড দোকান কক্ষগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যমে ২০ বছরের জন্য লিজ প্রদান করেন। তবে স্থায়ীভাবে ইজারা দেয়া হয়নি।
ভবনটির নিচতলাসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ১৭ জন ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন পজিশন বন্দোবস্ত দেয়া হয়। বছরের পর বছর গেলেও ভবনটির সঠিক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়নি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ভবনটি তাই আর এগোতে পারেনি। ফলে উপরের অংশের ব্যবসায়ীরাও ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয় নিজেদের। এদিকে, গত অক্টোবরে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি বর্গফুট আট টাকা থেকে ১০০ ও ১৫০ টাকা করে ভাড়া নির্ধারণ করেন। গত ৩০শে ডিসেম্বর আবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভবনটি ঝুঁঁকিপূর্ণ দাবি করে সব লিজ বাতিল এবং ৫ই ফেব্রুয়ারি মধ্যে দোকান ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে উচ্ছেদের নোটিশ ও ভবন ভাঙার কথা জানানোর পর ইজারাগ্রহীতারা উচ্চ আদালতে রিট করেন। গত ৩রা ফেব্রুয়ারি বিচারপতি আল জলিল ও বিচারপতি আনওয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জেলা প্রশাসককে শোকজ ও দুই সপ্তাহের রুল জারি করেন। রুলে ভবনের অবস্থা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন ছাড়া উচ্ছেদ ও ভবন ভাঙা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে রাতের মধ্যে সব মালামাল সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। মার্কেট ছাড়তে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনাকে অবৈধ বলেও দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।
তবে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনার পর মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার রাতেও অনেক ব্যবসায়ীকে নিজেদের দোকানের আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে দেখা যায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. পারভেজ। এ সময় সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মো. পারভেজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওভারসিজ সেন্টারটি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বড় ধরনের ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিভিন্ন সময়ে সেন্টার থেকে দোকানপাট সরিয়ে ফেলার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। যা আমলে নেয়নি দোকান মালিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা অন্তত ১৮টি দোকানের মালপত্র দ্রুত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দোকান মালিকরাও দ্রুত মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এটি ভেঙে ফেলা হবে। পরবর্তীতে এখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান এই সহকারী কমিশনার।
