ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার হাজী নূরুল ইসলাম দারুল আরকাম কওমি মাদ্রাসার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে দায়ের করা মামলার জেরে গত প্রায় চার মাস ধরে ওই মাদ্রাসার তিনতলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে মাদ্রাসাটির দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. জিয়াউল হক ও মো. জিল্লুর রহমান ফরহাদ বলেন- চরছকিনা এলাকায় ১ একর ১২ শতাংশ জমিতে আমাদের বসত বাড়ি ছিল। কয়েক বছর আগে এলাকাবাসীর দাবির ভিত্তিতে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ওই জমি স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় দান করে দিই। গত ৪ বছর ধরে আধাপাকা একটি ভবনে মাদ্রাসাটির কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলছে। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত হাফেজি ও দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলা এবং ইংরেজি বিষয়েও পড়ালেখা করছে। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং আবাসিক সংকট দেখা দেয়ায় নতুন করে তিনতলা বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করি। যার নিচতলায় মসজিদ এবং ওপরের দুইতলায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও আবাসিকের ব্যবস্থা থাকবে। এরইমধ্যে ভবনটির নিচতলার পাইলিং ও পিলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তারা আরও বলেন, ওই জমি মাদ্রাসায় দান করার আগে সেখানের একটি ঘরে আমাদের চাচা সফিজল মুন্সীকে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতে দিই, পাশাপাশি তাদেরকে আমাদের জমি রক্ষণাবেক্ষণেরও দায়িত্ব দিই। যার জন্য তাদেরকে প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হতো। কারণ আমরা লালমোহন বাজারে ব্যবসা করার সুবাদে সেখানে খুব বেশি যেতে পারতাম না। তবে কয়েক বছর আগে আমার চাচা মারা যান। তারপর থেকে সেখানে তার স্ত্রী-সন্তানরা থাকতেন। এরপর ওই জমিতে মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার সময় তাদেরকে জমি ছেড়ে দিতে বলি। তারা জমি না ছেড়ে উল্টো সালিশ ডাকেন। পরে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় সালিশের রায়ে চাচা সফিজল মুন্সীর স্ত্রী ও সন্তানকে নগদ ৫ লাখ টাকা প্রদান করি। টাকা পাওয়ার পরেও আমাদেরকে হয়রানি করতে চাচা সফিজল মুন্সীর স্ত্রী লুৎফা বেগম ভোলা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার কারণে বর্তমানে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বর্তমানে ইট, বালু, রড, সিমেন্টসহ ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগের ব্যাপারে সফিজল মুন্সীর স্ত্রীর লুৎফা বেগম জানান, ওই সম্পত্তিতে আমাদেরও অংশ রয়েছে। তারা আমাদের পাওনা অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। যার জন্য আদালতে মামলা করেছি। এছাড়া তারা আমাকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে তা আবার নিয়ে গেছে। লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন- আদালতে মামলা দায়েরের পর দুই পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় উপস্থিত হতে বলেছি। নির্ধারিত তারিখে বিবাদীরা কাগজপত্র নিয়ে থানায় উপস্থিত হলেও বাদী লুৎফা বেগম উপস্থিত হননি। আমরা তদন্ত করে দেখেছি লুৎফা বেগম ওই জমিতে ওকরাইত হিসেবে ছিলেন।
মাদ্রাসা ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ, পাঠদান-আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
১৮ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
