মেহেরপুর জেলা শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া (৮) স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। পরে বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়রা একপর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। পরে শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জানা যায়, গত বুধবার বিকাল প্রায় ৪টার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। সময় গড়াতে থাকলে সাদিয়া ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। পরে তার চিৎকার পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে। এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা শহরের পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। খোঁজ নিতে এসে তিনিও স্থানীয়দের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। ঘটনাটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও কল রিসিভ করা হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবো।
মেহেরপুরে বিদ্যালয়ের বাথরুমে আটকা পড়লো ছাত্রী, স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধার
মেহেরপুর প্রতিনিধি
১৭ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
