আদম বেপারীর খপ্পরে পড়ে সব খুইয়ে দেশে ফিরলেন তাড়াশের দুই যুবক

ফন্ট সাইজ:

আদম বেপারীর খপ্পরে পড়ে ২৫ দিন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমান নামের দুই যুবক। জমি বিক্রি এবং সঞ্চয়ের সব টাকা দিয়ে সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়ে শুধু জান নিয়ে ফিরতে পেরেছেন তারা। তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিহাব উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি ও মো. হাবিবুর রহমান বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর আদম বেপারী জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুন বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ভুক্তাভোগী শিহাব গত ১২ই এপ্রিল জাহাঙ্গীর ও তার পুত্রবধূ মোছা. জলি খাতুনের বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন গ্রিসে থাকেন। তার সূত্র ধরে তার বাবা জাহাঙ্গীর ও তার পুত্রবধূ জলি গ্রিসে যেতে ইচ্ছুক শিহাব ও হাবিবুরের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে গ্রিসে পাঠানোর জন্য দরবার করেন। এরপর দরকষাকষি শেষে তাদের দু’জনের কাছ থেকে দুই দফায় ২৬ লাখ টাকা জলি ও তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর গ্রহণ করেন বলে ভাষ্য ভুক্তভোগী শিহাবের। শিহাব ও হাবিবুর জানান, জাহাঙ্গীর ও তার পুত্রবধূকে টাকা দেয়ার পর গত ৭ই মার্চ তাদের পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিমানবন্দরে এনে একটি বিমানে তুলে দেন। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আমাদের লিবিয়ার বেনগাজি বিমানবন্দরে নামতে বলেন। আমরা সে মোতাবেক বিমান থেকে নামার পরপরই ওই দেশের দুই ব্যক্তি জাকারিয়ার লোক হিসেবে আমাদেরকে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি একটি মাইক্রো গাড়িতে করে লিবিয়ার একটি অঞ্চলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরে একটি ছোট্ট কক্ষে পূর্বে থেকে অবস্থান করা আরও প্রায় ৪০ জন লোকের সঙ্গে আমাদের ওই রুমে রেখে তালাবদ্ধ করে চলে যান। তারপর থেকে প্রায় ২০ দিন ধরে অনাহারে-অর্ধাহারে রেখে দফায় দফার টাকার জন্য মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দাবি করে দু’জনের পরিবারের কাছে ফোনে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ দেন। পরবর্তীতে আমাদের পরিবার জাহাঙ্গীর ও জলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন জলি এবং জাহাঙ্গীরের কথামতো আমাদের দুই পরিবারের সদস্যরা জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা লিবিয়ার ওই মাফিয়াদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠায়। টাকা পাঠানোর একদিনের পর আমাদের দু’জনকে মাফিয়া চক্র ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে লিবিয়াতে অবস্থান করা জলির মামা নাটোরের সিংড়া উপজেলার প্রবাসী বাশারের মাধ্যমে আবার ১ লাখ টাকা দিয়ে আমরা শুধু জান নিয়ে গত ৫ই এপ্রিল দেশে ফিরে আসি এমনটি ভাষ্য প্রতারিত যুবক হাবিবুরের। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে গ্রিসে পাঠানোর জন্য নিজে ৪ লাখ এবং তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন জলি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরাসরি গ্রিসে যাওয়া যায় না। এ কারণে প্রথমে তাদের দু’জনকে পাঠানো হয়েছিল লিবিয়ায় অবস্থানরত মামার কাছে। কিন্তু শিহাব ও হাবিবুর যে কাজ চেয়ে তা না পেয়ে ফিরত এসেছেন। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, তদন্তের কাজ চলছে। আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন