ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে পারেন সন্দীপ চক্রবর্তী

হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট

ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে পারেন সন্দীপ চক্রবর্তী

ফন্ট সাইজ:

জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক সন্দীপ চক্রবর্তী হতে পারেন বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার। বর্তমানে তিনি ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত। তাকে বাংলাদেশে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অভূতপূর্ব টানাপড়েনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমস। ১৯৯৬ সালে ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন সন্দীপ চক্রবর্তী। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেপুটি চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় হাইকমিশনার পদে বিবেচিত কূটনীতিকদের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও তার নাম ছিল। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা- বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তবে বাংলাদেশের বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা আরও কয়েক সপ্তাহ দায়িত্বে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ ও প্রশাসনিক স্থিতি পাওয়ার সময়টুকু পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন। এ সময়ের মধ্যেই নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক সম্মতি চূড়ান্ত করা হবে।

২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ঢাকায় দায়িত্ব পালনরত প্রণয় ভার্মা পর্দার আড়ালের একজন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যে টানাপড়েনপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়, সে সময়ে ঢাকার ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে দুই দেশের কূটনীতিকরাই মনে করেন। গত দেড় বছরে তিনি বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে নীরব, কিন্তু বিস্তৃত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। ঢাকায় বর্তমান ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধেও চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে পারেন।সন্দীপ চক্রবর্তী এর আগে পেরু ও বলিভিয়ায় রাষ্ট্রদূত এবং নিউইয়র্কে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্পেন ও কলম্বিয়ায় ভারতের মিশনেও তিনি কাজ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে তিনি পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

জানা গেছে, গত বছরই ঢাকা মিশনে বাংলা ভাষায় দক্ষ একজন কূটনীতিক নিয়োগ দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে যাওয়ার পর তা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত পরবর্তী হাইকমিশনারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে কার্যকর সম্পৃক্ততা পুনরারম্ভ করা। ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। তবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ উভয় দলের নেতৃত্বই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলেছে।


Ajit Ranjan

৩ মাস আগে

Man plan and propose but Almighty God 's power impliments and controll every things by His own will , all over the world all rulers heart in His hand is like a flowing river water , He chanells them in His own way for all man kind , for the people , of the people .

মন্তব্য করুন