গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারো জীবন দেবো: জামায়াত আমীর

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায়ের মাধ্যমে ‘জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা’ বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ জন্য প্রয়োজন হলে আবারো জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন তারা। সোমবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এ সেমিনারের আয়োজন করে। শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে জনগণ আমাদের তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতেই পাঠিয়েছে। মুখ বন্ধ করে বসে থাকার জন্য নয়, বরং তাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানানোর জন্য পাঠিয়েছে। আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি। যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই করা প্রয়োজন, ততদিনই সংসদে থাকবো; তার বাইরে এক সেকেন্ডও নয়। সংসদের ভেতরে যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারবো, কথা বলতে পারবো, ততদিন সংসদে থাকবো। লড়তে না পারলে, কথা বলতে না পারলে এক মিনিটও থাকবো না।
তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া এখন সংসদে দেখতে পাচ্ছি। এই মনোভাব এবং আচরণ দেখাবেন না। জুলাই বিপ্লবের মধ্যদিয়ে যে প্রজন্ম ও দেশ গড়ে উঠেছে, সেই দেশ কারও রক্তচক্ষু পরোয়া করে না। জামায়াত আমীর দাবি করেন, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান শুধু শিক্ষিত সমাজ বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন ছিল না; এতে শ্রমিক শ্রেণির ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। প্রায় ১,৪০০ শহীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই শ্রমিক। তারা কি কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল? কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল আমাদের যুবসমাজ ও ছাত্র সমাজ। শ্রমিকরা নেমেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে; তারা নেমেছিল একটা পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা নিয়ে।
তিনি বর্তমান সংসদকে জুলাই প্রোডাক্ট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জুলাই আছে বলেই আমরা আছিÑ সরকার ও বিরোধী দলও আছে। জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি সরকার বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ, দুদক অধ্যাদেশ, পুলিশ অধ্যাদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বাতিল করছে। এর প্রতিবাদে জামায়াতসহ বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছে।
শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, এ আন্দোলন কোনো ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে শহীদদের রক্তের ওয়াদা এবং জুলাইযোদ্ধাদের আকাক্সক্ষা পূরণ করার জন্য। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশবাসীÑ আপনারা শুধু পাশে থাকবেন। এই আন্দোলন আমার, আপনাদেরÑ সবার জন্য। আমরা আমাদের সন্তানদের কারও গোলাম বানাতে চাই না। কারও পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে ফ্যাসিজম হিসেবে চলবেÑ তা আমরা বরদাস্ত করবো না। সারা দেশে এখন আন্দোলন চলছে। শুরু হবে কি, শুরু তো হয়েই গেছে। এখন তিলে তিলে সেই আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।
এ সময় ইসলামী ব্যাংককে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশের রেমিট্যান্স আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাংকটিকে দলীয়করণ করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতিকে বর্তমান দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। বিএনপিকে এর দায়ভার এবং পরিণতি ভোগ করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ হবে। একটা নতুন বন্দোবস্ত হবে, যেখানে স্বৈরাচার বারবার ফিরে আসবে না। কিন্তু গণভোট পরবর্তী সময় আপনারা সবকিছুই দেখছেন যে কীভাবে গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, তারা বলছে জুলাই সনদ তারা অক্ষর অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু জুলাই আদেশটা অবৈধ। যে জুলাই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট তৈরি হয়েছিল, গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল তারা সেটার বিরোধিতা করছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ন্যাশনাল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা জামান চৌধুরী প্রমুখ।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন