আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় মেডিকেল ভিসা ও ব্যবসায়ী ভিসা চালু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। একইসঙ্গে ভারতের মাটিতে বসে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যাতে অস্থিতিশীল করতে না পারেন সে বিষয়ে দেশটিকে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এ কথা জানান। সকাল সাড়ে ১১টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা সম্প্রতি ভারত সফরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। গত ৮ই এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। তার সফরসঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এটা (শেখ হাসিনা) আমরা আলোচনায় তুলেছি, এটা তো আলোচনায় থাকবেই সবসময়, যেহেতু বাংলাদেশের জনগণের একটা ইন্টারেস্ট। একজন স্বৈরাচার, একজন সন্ত্রাসী যে আন্তর্জাতিক টেররিস্ট হিসেবে পড়ে আছে ভারতের স্পেসে। এই সন্ত্রাসী বাংলাদেশের দেড় হাজার মানুষ হত্যা করে পালিয়ে গেছেন ভারতে, এটা আমরা আলোচনায় বলেছি, তার স্থান বাংলাদেশে আর নাই। এখানে যাতে সে (শেখ হাসিনা) কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা তাদের (ভারতের) মাটিকে ব্যবহার না করতে পারেন- এ বিষয়গুলো আমরা বলেছি। তাকে নিয়ে তেমন বেশি আলোচনা হয়নি, তার কোনো গুরুত্ব নাই, হাসিনা বলতে বাংলাদেশে আর কিছু নাই। তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টি ভারতকে বলা হয়েছেÑ জানিয়ে তিনি বলেন, জুডিশিয়াল প্রসেসে আমরা সেটা চাইবো, ইট হ্যাজ বিন ডিসকাস্ড- একটা কেইসের বিচার হয়েছে, এখনো আরও কয়েকটি কেইস পেন্ডিং রয়েছে, যেখানে মানুষ হত্যা থেকে শুরু করে লুটপাট অনেক কিছু রয়েছে। আমরা বলেছি, সব কিছু ট্রান্সপারেন্ট জুডিশিয়াল প্রসেসের মাধ্যমে হবে।
ভারত সফর ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, দু’দেশের যদি মাইন্ডসেট থাকে সম্পর্ককে পজিটিভ দিকে নিয়ে যাওয়ার, তাহলে আমরা কিছুটা ভালো প্রোগ্রেস করতে পারবো, ওই দিক থেকে ‘ইট ওয়াজ এ ফ্রুটফুল ভিজিট’। ওখানে আমরা ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার অজিত দোভালের সঙ্গে মিটিং করেছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা-বার্তা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, মেডিকেল ভিসা ওপেন আপ করে দিতে। তারা পজিটিভলি বিষয়টা রিসিভ করেছেনÑ মেডিকেল ভিসা, ব্যবসায়ী ভিসা খুলে চালুর বিষয়ে। আশা করিÑ আগামী সপ্তাহে একটা পজিটিভ কিছু আমরা দেখতে পাবো।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এখনো ফাইনাল কিছু হয়নি। সম্ভবত ধরেন, ‘যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর ফরেন পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক টু দি সার্ক এর মাধ্যমে প্রজেক্ট করতে চাচ্ছেন বা আমরা চাচ্ছি, আমাদের সরকার এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে রিজিওনাল কো-অপারেশন এবং রিজিওনাল লিডারশিপটা যাতে জোরদার করা যায়, স্বাভাবিকভাবে এই রিজিয়নের ভেতরে সফর হতে পারে। কিন্তু এখনো ফাইনাল কিছু না, হতে পারে- এটা বিবেচনাধীন আছে।’
জুলাইযোদ্ধা হাদি হত্যার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে কিলারদের ধরা হয়েছে। এটা তো আইনি প্রক্রিয়া, ট্রিটির মাধ্যমে হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা আলোচনায় বলেছি যে, বন্ধুত্ব সম্পর্ক করতে হলে, অগ্রসর হতে হলে পজিটিভ ফিজিবিলি দুই পক্ষ থেকে আমাদের দেখাতে হবে। আই উড সে ইটস এ গুড স্টার্ট। এখানে তো একদিনে সব আলোচনা করা যাবে না।
তিনি বলেন, সম্পর্কের উন্নয়নে কিছু চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা যখন সেখানে আছেন, চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে কীভাবে আমরা অন্য কাজগুলো যে দু’দেশের মিউচ্যুয়াল বেনিফিট হয় বা মিউচ্যুয়াল ইন্টারেস্টে পড়ে- সেগুলোকে আমরা এগিয়ে নেবো, সেটাই আলোচনায় এসেছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি খাতে তাদের কিছু সহযোগিতা আমরা পেয়েছি, পাইপলাইনে আছে- এটার জন্য তাদের (ভারত) ধন্যবাদ জানিয়েছি। যেখানে সহযোগিতা আরও লাগবে, ওখানে আমরা সহযোগিতা পাবো- এই বিষয়ে তারা আশ্বস্ত করেছে। তেমন হার্ট ডিটেইল কোনো কথা-বার্তা ওখানে হয়নি।

Sumon
২ মাস আগেআহারে কি সোনার হরিণের জন্য কস্ট করে ঠিক
করা হোলো!