গণভোট ঘটনাক্রমে সিদ্ধ

গণভোট ঘটনাক্রমে সিদ্ধ

ফন্ট সাইজ:

গণভোটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। অধ্যাদেশ জারি হয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ। গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচন বা অন্যান্য ভোট এক বিষয় নয়। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিশেষ প্রয়োজনে যে গণভোটের বিধান রয়েছে, তার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সাধারণ ভোটের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন পরবর্তী বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণভোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিও বক্তব্য দেন।

গণভোট নিয়ে বিরোধী দল আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে, এটা কেন সংসদে অনুমোদন হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটা তো ফ্যাক্টাম ভ্যালেট, এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। অধ্যাদেশ জারি হয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ। গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে। তিনি বলেন, এটার বিষয়ে নতুন করে আইন করে আগামীতে তো এর উপরে কোনো গণভোট হবে না। ভবিষ্যতে যদি কোনো গণভোট করতেই হয়, আইদার (দু’টির মধ্যে যেকোনো একটি) সাংবিধানিক গণভোট হবে আর্টিকেল ১৪২ অনুসারে, অথবা যদি সংবিধানের বাইরে, যেহেতু সংবিধানে এমন কিছু বলা নাই যে, আর কোনো গণভোট কোনো বিষয়ে করতে পারবে না সরকার চাইলে। সুতরাং সেটা যদি করতে চায় অন্য কোনো বিষয়ে, সেটা আলাদা একটা আইন করতে হবে...সুতরাং এটা হুমকি দেয়ার কোনো বিষয় না। এটার বৈধতা তো আছেই। অবৈধ তো বলছি না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যখন বিগত গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তী সরকার) সকল কর্মকাণ্ডকে, দুই-একটা বাদে বৈধতা দেয়া হবে তখন সেটা লেজিটিমেট (বৈধ) হয়ে যাবে। বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকির প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
সরকার গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, নির্বাহী ক্ষমতা ও সংশোধন-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের বিধান যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যদি গণভোট আয়োজন করতে হয়, তাহলে তা হয় সংবিধানসম্মতভাবে, নয়তো আলাদা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করে জারি করা কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুম, মানবাধিকার, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও ভালো আইন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অধ্যাদেশে যা ছিল, সেখানে সবই যে ঠিক ছিল তা না। আমি নিজেই গুমের শিকার। গুম নিয়ে ভালো আইন হবে। সংসদে বিরোধী দল বেশ কয়েকবার ওয়াকআউট করেছে। সংসদের বিধি অনুযায়ী সেটা করতেই পারেন। কিন্তু যেসব ইস্যুতে ওয়াকআউট করেছেন তা সঠিক ছিল না। সংসদের বাইরে তার ভুল তথ্য দিয়ে ব্রিফ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে সেখানে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত থাকার বিষয়টি ছিল। তবে সরকার সেটা সংশোধন করেছে। এটা নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করে পরবর্তীতে নতুন বিল আনা যেতে পারে। সংসদে যেসব বিল উত্থাপন হয়নি, তা সংশোধিত আকারে পরবর্তী কোনো অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।

রহিত অধ্যাদেশ যাচাই বাছাই করে নতুন আইন করবে সরকার:
আরও যাচাই বাছাই ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, মানবাধিকার কমিশনসহ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে এসব বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে। আইনমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ই মে’র পর মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিলগুলো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আনা হবে, যাতে সব পক্ষের আলোচনার সুযোগ থাকে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলগুলো পাস হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকতো না, তাই নতুন করে তা সংসদে আনা হবে।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু, ১৩টি সংশোধিত আকারে এবং ৭টি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি।

হেদায়েত উল্লাহ

২ মাস আগে

আবার জনগণ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জনগনের সর্বোচ্ছ রায়কে আদালতে টেনে নিয়ে কার স্বার্থ রক্ষার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। অন্তর্বতী সরকারের সময়ের সকল অধ্যাদেশ যা সব দলের ঐক্যমত্যের ভিত্ততে গৃহীত হয়েছে সেগুলো এখন ক্ষমতায় এসে আপনারা আরও গ্রহণযোগ্য করে করার কথা বলে বাতিল করছেন। এসব ছলচাতুরী করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকতে হলে বাংলাদেশের রাজনীতি করতে হবে। মুখে বলবেন বাংলাদেশ ফার্স্ট আর কাজ করবেন অন্যদের সার্থে সেটা করতে দেওয়া হবে না।

Sukur ulla

২ মাস আগে

Ha ha ha

মন্তব্য করুন