এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি

এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি

ফন্ট সাইজ:

আশা ভোঁসলে। যার কণ্ঠ ভারত ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। যিনি বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছেও ভীষণ জনপ্রিয়। সেই উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে চলে গেলেন ৯২ বছর বয়সে। অনেক দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন, তেমন নয়। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে তার অসুস্থতার খবর। গতকাল দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার চলে যাওয়ায় একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। শোকের ছায়া নেমে এসেছে উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে। তাবৎ খ্যাতনামা শিল্পীরা শোক প্রকাশ করছেন এই কিংবদন্তির বিদায়ে। সুত্র মতে, শনিবার সন্ধ্যাবেলা আচমকাই শরীরে অস্বস্তি শুরু হয় শিল্পীর। নিজের অস্বস্তির কথা এক গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন তিনি। তখনই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শিল্পীর পরিবার ও অনুরাগীরা আশা করেছিলেন, খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ১৯৩৩ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর জন্ম আশা ভোঁসলের।

তিনি প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের বোন। বাড়িতে গানের পরিবেশেই বড় হয়েছেন তারা। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি ১৯৪৩ সালের মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাঝা বাল’র জন্য তার প্রথম চলচ্চিত্রের গান ‘চলা চলা নাভ বালা’ গেয়েছিলেন। শুরুতে তাকে মূলত নৃত্যগীত (ড্যান্স নম্বর) যেমন ‘ও হাসিনা জুলফোওয়ালি’ ধরনের গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ভাবা হলেও, পরবর্তীতে তিনি ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’র মতো গজল এবং ‘তোরা মন দর্পণ কেহলায়ে’র মতো শাস্ত্রীয় সংগীতেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অজস্র চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘চুরালিয়া হে তুমনে’, ‘জাওয়ানি জানেমন’, ‘ইন আঁখো কি মাস্তি’, ‘রঙিলারে’, ‘ইনতেহা হগাহি ইনতেজার কি’, ‘ও হাসিনা জুলফোওয়ালি’, ‘দম মারো দম’ প্রভৃতি। সংগীত জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০০০ সালে পেয়েছিলেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। ১৯৮১ এবং ১৯৮৬ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সাতবার পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ২০০০ সালে তিনি পেয়েছিলেন শতাব্দীর সেরা গায়িকা পুরস্কার। ২০০২ সালে বিবিসি আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সালে তিনি পেয়েছিলেন নাইটিঙ্গেল অব এশিয়া পুরস্কার।

আশা ভোঁসলে ২০১১ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃক সংগীতে সর্বাধিক রেকর্ডকৃত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃত হন, যিনি ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২,০০০’রও বেশি গান গেয়েছেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আশা ভোঁসলেও ছিলেন নিজেকে বদলে ফেলা এক শিল্পী। এই প্রবীণ গায়িকা এক্স, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সক্রিয় থাকতেন। গানের পাশাপাশি রান্না ছিল এই শিল্পীর নেশা। রান্নার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ২০ বছর আগে রেস্তরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হন। অনেক দেশেই তার রেস্তরাঁর শাখা আছে এখন। গায়িকা না হলে কী হতেন? বহুবার এই প্রশ্নে আশা বলেছিলেন, পেশাদার রাঁধুনি হতাম। বেছে বেছে চারটা বাসায় রান্না করে প্রচুর টাকা উপার্জন করতাম। ‘আশাজ’ নামে তার ১০টি রেস্তরাঁ আছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানান, আজ সকাল ১১টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডে এসে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন ভক্ত-অনুরাগীরা। এখানেই তিনি থাকতেন। বিকাল ৪টায় শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন