দেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধান দুই খাত- রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই উচিত নতুন বাজার খোঁজা, ব্র্যান্ডিং জোরদার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেয়া। এ ছাড়াও বাংলাদেশের ফরেন পলিসি বা অন্যান্য পলিসি’র ক্ষেত্রে ভাসাভাসা জ্ঞান না রেখে, সেগুলোকে একটি ডেস্টিনেশন দিয়ে দেয়া। যাতে অভ্যন্তরীণ দক্ষ জনবল কাজে লাগানো, এটা ব্র্যান্ডিং করে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসা, যে দেশগুলোতে মানবসম্পদ রপ্তানি করা হবে সেসব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে বলেও গুরত্বারোপ করেছেন তিনি। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি)। সেন্টার ফর এনআরবি'র চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে ১৩টি ব্যাংক, একটি প্রতিষ্ঠান ও একজন ব্যক্তিকে ‘রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এখন মূলত গার্মেন্টস রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই দুই খাতই দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। সস্তা শ্রমের কারণে বাংলাদেশ এখনো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলেও ভবিষ্যতে চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড শেষ হওয়ার আগেই দেশের মানবসম্পদকে দক্ষ করে তুলতে হবে এবং সেটিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে নতুন বিনিয়োগ টানতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শ্রমবাজার সংকুচিত হতে পারে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজা এবং দক্ষ কর্মী রপ্তানিতে জোর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎসগুলো বেশ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত-এনআরবি ডায়াসপোরাকে আরও বেশি দক্ষ করে তোলা এবং তাদের উপার্জিত অর্থ দেশের উন্নয়নে সঠিক চ্যানেলে বিনিয়োগ করা।
তিনি সেন্টার ফর এনআরবি’র প্রশংসা করে বলেন, যারা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সহায়তা করছেন, যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবদান রাখছেন, তাদের পুরস্কৃত ও উৎসাহিত করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
প্রবাসী আয়ের নতুন উৎস এবং নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রচলিত উৎসে আটকে না থেকে বলকান অঞ্চল বা পূর্ব ইউরোপের মতো নতুন বাজারগুলোতে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সৌদি আরবে লোক পাঠানোর মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ফরেন পলিসি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বিদেশে আমাদের মিশনগুলো প্রবাসী ভাই-বোনদের সেবা নিশ্চিত করতে এবং তাদের সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, প্রবাসীদের জন্য ঢাকায় একটি ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়েও সমপ্রসারণ করা হবে। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
দ্রুত সাড়াদানের ক্ষেত্রে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, দ্রুত দায়িত্ব নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মিশনগুলোর রেসপন্স কম দেখি। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অনেক শ্রমিক, তাদের সহায়তা করার দায়িত্ব নিতে হবে।
ল’ ফার্মের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীদের সহায়তার তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। তা?দের সহায়তা করার জন্য ৮-১০ দেশে ল-ফার্ম কাজ করছে।
সেন্টার ফর এনআরবি’র অনুষ্ঠানে বক্তারা
রেমিট্যান্স-গার্মেন্ট ঝুঁকিতে ব্র্যান্ডিংসহ নতুন পথ খোঁজার তাগিদ
স্টাফ রিপোর্টার
১৩ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
