দুঃসাহসী সব অভিযাত্রার গল্প ‘পাহাড়ে ও সমতলে’

দুঃসাহসী সব অভিযাত্রার গল্প ‘পাহাড়ে ও সমতলে’

ফন্ট সাইজ:

কথাটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। যদিও এটিই সত্যি। জরুরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ শিল্পের মানুষ ছিলেন। কিন্তু অবসরে তিনিই হিমালয় থেকে কিলিমাঞ্জারো ছুটছেন। আর অভিযানের রোমাঞ্চকর সেই সব অভিজ্ঞতা কলমের আঁচড়ে তুলে দিচ্ছেন পাঠকের হাতে। বয়স ষাট পেরিয়েছে তো কী হয়েছে। মনের তারুণ্য ভর করে এভারেস্টের চড়াই উতরাই আর বৈরী আবহাওয়াকে সঙ্গী করে একাধিকবার ছুটে গেছেন তিনি। বলছিলাম একজন অভিযাত্রী ইফতেখারুল ইসলামের কথা।

হিমালয় উপত্যকা বেয়ে নেমে আসে খরস্রোতা নদী। হিমালয়ের বেস ক্যাম্পে রাত্রিযাপনের সময় সে নদীর এক অপার্থিব সৌন্দর্য অবলোকন করেন ইফতেখারুল ইসলাম। এভারেস্ট, কিলিমাঞ্জারোর রিজ লাইন ছুঁয়ে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি এখনো ছুটে বেড়াচ্ছেন পাহাড় থেকে পাহাড়ে। সেই দুঃসাহসী অভিযাত্রার গল্পগুলো রয়েছে ‘পাহাড়ে ও সমতলে’ নামের বইতে। বইটি প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এক ঘরোয়া আড্ডায় বইটি নিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠেন লেখক-সাহিত্যিকরা। আয়োজনের মধ্যমণি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘লেখকের একটা আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে। সে জানতে চায়, যা লিখলাম তা কেমন হয়েছে কীভাবে বুঝবো? সুতরাং তার একটা আয়না লাগে। আর পাঠক হলো সেই লেখকের আয়না।’
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘ওর (ইফতেখারুল) ভাষা এখন অনেক পরিশীলিত হয়েছে। সুন্দর, সাবলীল, স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বতঃস্ফূর্ত তার ভাষা।’

তিনি বলেন, লেখকের ভাষা আলাদা হতে হলে তাকে আলাদা মানুষ হতে হয়। তা না হলে হঠাৎ কারও নিজস্ব গদ্যরীতি বা কাব্যরীতি তৈরি হবে না। মানুষ যখন আলাদা হবেন, তখন তার ভাষাও আলাদা হবে। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের দৃষ্টিতে ইফতেখারুল ইসলামের ভাষায় ‘লাবণ্য ও লালিত্য’ আছে, যা তাকে হাল আমলের গদ্যরীতি থেকে আলাদা করেছে।

কোনো এক অভিযাত্রী যখন ভ্রমণগদ্য লিখবেন, তাদের জন্য একটি পরামর্শও দিয়েছেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, অভিযাত্রীর বর্ণনায় একটু ‘বাড়তি কিছু’ দরকার। তা হলো, সেই লেখনীতে যেন অভিযাত্রা ও প্রকৃতির অসাধারণ বর্ণনার পাশাপাশি যেন সেই দেশের চলমান প্রেক্ষাপটও উঠে আসে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া ও জাপান যাত্রার গল্পগুলো পড়তে বলেন লেখকদের। রোমহর্ষক অভিযাত্রা ও বিস্ময়কর প্রকৃতির পাশাপাশি সেই দেশের চলমান রাজনীতি, সংস্কৃতির গল্প যুক্ত হলে ভ্রমণকাহিনী ‘পরিপূর্ণতা পায়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইফতেখারুল ইসলাম জানান, ‘পাহাড়ে ও সমতলে’ বইটিতে পাহাড় নিয়ে ৪টি বিশদ কাহিনী ও সমতলের ১১টি গল্প রয়েছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর নানা দেশ আর শহর ঘুরে এসে সমতলের সেই গল্পগুলো লিখেছেন তিনি। ভ্রমণের গল্প বলতে গিয়ে তিনি কিলিমাঞ্জারো, হিমালয়, দুধকোষী নদীর রূপমাধুরী এমনভাবে বর্ণনা করছিলেন যেন একমুহূর্তে তিনি সেই বরফাচ্ছাদিত উপত্যকায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন। কেমন করে পর্বতারোহী হয়ে উঠছেন সেই গল্পও শোনান তিনি।
কথাসাহিত্যিক আনিসুল ইফতেখারুল ইসলামকে ‘আলোর মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এ বইটি আসলেই একটি ভালো বই।’

লেখক-গবেষক চৌধুরী মুয়াদ আহমেদ বলেন, ‘ভ্রমণ গদ্যলেখক যখন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাপিয়ে তার সঙ্গীদের মূল্যায়ন করছেন, তার পারিপার্শ্বিকতা মূল্যায়ন করছেন, তখন সেই ভ্রমণকাহিনী সুখপাঠ্য হয়ে ওঠে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন