হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের মেঘরাশি গ্রামে এক অসহায় মায়ের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। সবিতা রানী দেব নামের এক বৃদ্ধা নারী নিজের সন্তান রুবেল দেবের নির্যাতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার চোখের পানি যেন থামছেই না। জানা গেছে, চরম কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে ছেলেকে বড় করেছেন সবিতা রানী দেব। না খেয়ে, না পরে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই সন্তানই আজ তার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পর থেকেই রুবেল দেবের আচরণে আসে ভয়াবহ পরিবর্তন।
প্রায়ই তিনি মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রুবেল দেব বাড়ির প্রায় সব আসবাবপত্র একে একে বিক্রি করে দিয়েছেন। এমনকি বাড়ির গাছপালাও কেটে বিক্রি করেছেন। এতে পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার অত্যাচারে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তার স্ত্রীও। বর্তমানে বৃদ্ধা মাকেও বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। সবিতা রানী দেব বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বড় করেছি। নিজের খাবার না খেয়ে তাকে খাইয়েছি। এখন সে মাদকাসক্ত হয়ে প্রতিদিন আমাকে মারধর করে। ঘরের সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আমাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়।
আমি কোথায় যাবো, কী করবো বুঝতে পারছি না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের অনেকের কাছে বিচার চেয়েছি। কিন্তু কোনো সুরাহা পাইনি। সবাই শুধু আশ্বাস দেয়। এই কষ্ট নিয়ে হয়তো একদিন মারা যাবো। স্থানীয় সমাজকর্মী হামিদুর রহমান বলেন, মাধবপুরে মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে পরিবারগুলো ভেঙে পড়ছে। তিনি বলেন, সবিতা রানী দেবের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এমন অনেক পরিবার নীরবে কষ্ট সহ্য করছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য তিতন মিয়া বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
রুবেল দেব তার মায়ের ওপর যে নির্যাতন চালাচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা তাকে চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। রুবেলকে দ্রুত কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন। বহরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া জানান, বিষয়টি তার জানা রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নেয়া হবে, যাতে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পান।
