লাকসামের সেই হাসপাতাল বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

লাকসামে ভুল চিকিৎসায় এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন। অপরদিকে, গতকাল এক নোটিশের মাধ্যমে হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত বুধবার মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ আল হাসানের খেলতে গিয়ে হাত ভেঙে যায়। বুধবার রাতে তার আত্মীয়স্বজনরা টমা হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তার সাহেদ আনোয়ারকে দেখায়। ডাক্তারের পরামর্শে হাসপাতালে ৩৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। বৃহস্পতিবার ডাক্তার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়।

ভাঙা হাতে এনেস্থেসিয়া না দিয়ে সমস্ত শরীরে পুশ করে। ভেঙে যাওয়া হাতটি অপারেশন করে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে নির্দিষ্ট সময় পর তার জ্ঞান ফিরে না আসায়। ডাক্তার বুঝলো ছেলেটি আর নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ছেলেটিকে এম্বুলেন্সে উঠায় এবং অভিভাবককে গাড়িতে উঠতে বলে। তারা কারণ জানতে চাইলে বলে- কুমিল্লা নিতে হবে আইসিইউতে ভর্তি করতে হবে। কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তাররা জানায়, ছেলেটি অনেক আগেই মারা গেছে। মুহূর্তেই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক ও আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালের সামনে ভিড় করে। ছেলেটির লাশ হাসপাতালের সামনে রেখে বিক্ষোভ করতে থাকে।

পরদিন শুক্রবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছেলেটির পিতা ও তার আত্মীয়স্বজনদের তিন লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা করতে চায়। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলিনুর মোহাম্মদ। কমিটির সদস্যরা হলেন- লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক্স সার্জন সুমন চন্দ্র দত্ত এবং কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ডা. আব্দুল্লাহ আল কাউসার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন